DSE CSE

নির্বাচন বর্জন ও আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন : তারেক রহমান

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিরোধী দলের চলমান আন্দোলনকে একটি বন্দী জাতির মুক্তির জন্য এক অশুভ আশীর্বাদপুষ্ট স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে লড়াই আখ্যায়িত করে বিএনপি ও ১৮ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নেতাকর্মীদের কারো নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে সর্বশক্তি দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে এবং নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার লন্ডন থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তারেক রহমান এই আহ্বান জানান। যুক্তরাজ্য বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে এ ভিডিও বার্তাটি পাঠানো হয়।

তারেক রহমান বলেন, চলমান রাজনীতিতে যেন দেশের এই অস্তিত্বকে ঘিরেই বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বের যে সংজ্ঞা আমরা চিরকাল জেনেছি, ক্ষুদ্র একটি রাজনৈতিক জনসমষ্টি নিজেদের স্বার্থে আজ সেই সংজ্ঞাকে বদলে ফেলছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী যে রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হতে পারে স্বাভাবিক, ভিত্তি হতে পারে পারস্পরিক মঙ্গল ও সমঝোতা, সেই সম্পর্ককে ব্যক্তিগত ও সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করে সেই রাজনৈতিক জনসমষ্টি আজ জনমতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। গণতন্ত্রের পালাবদলেই এক সময়ে আজকের এই জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়েছিল। ক্ষমতায় যাওয়ার সেই প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা সেই প্রক্রিয়াকে মেনে নিয়ে বিরোধী দলে গিয়েছিলাম। কিন্তু গত ৫ বছরে দেশের সম্পদের অভূতপূর্ব লুটপাট, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বর ন্যাক্কারজনক বিনাশ, আর রাজনৈতিকবিরোধী ও সমালোচকদের নজিরবিহীন দমনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে, তাদের ক্ষমতা লাভের সেই প্রক্রিয়া প্রকৃতপক্ষেই কলঙ্কজনক ছিল।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশজুড়ে আজ চলছে এক গভীর রাজনৈতিক সংকট। জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে দেশের মানুষ। জনসমর্থন ও আত্মবিশ্বাস শূন্যের কোঠায় পৌঁছানো আওয়ামী লীগ সরকার গণমানুষের ইচ্ছাকে তাদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, রাজনৈতিক গুম-খুন, সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যা, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের গণহত্যা আর দুর্নীতির স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সব অভিযোগের মুখে মানুষ প্রতিটি পদে পদে এ সরকারের ওপর অনাস্থার কথা জানিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় নির্বাচনগুলোয় প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিএনপি প্রার্থীদের ব্যাপক বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অবস্থান-দুটোকেই দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তারেক রহমান বলেন, পুরো দেশ যেন আজ একটি কারাগার, যেখানে জান-মালের নিরাপত্তা নেই; আছে কেবল ভীতি ও আতঙ্ক। নিরপেক্ষ নির্বাচনে অপমানজনক পরাজয় আর গণহত্যা-নৈরাজ্য-দুর্নীতি-অপশাসন সৃষ্টির দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ভয় থেকেই কি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের এই অবস্থান? দেশবাসীর চাওয়া-পাওয়া, তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, এসবের কি কোনোই মূল্য নেই?

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কি আবারও চূড়ান্তভাবে সেই বাকশালে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। যেখানে ভিন্ন মত, ভিন্ন আদর্শ আর সমালোচনাকে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা হত্যা করা হতো? বাকশালের পরিণতি সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হওয়া এ দেশের জন্য, এ দেশের মানুষের জন্য, এমনকি আওয়ামী লীগের জন্যও তা ভালো ফল বয়ে আনেনি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের সবার রাজনীতি যেহেতু দেশের কল্যাণার্থেই হওয়া উচিত, তাই মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনার দিকে যাত্রা না করে কেন আমরা আবার সেই অরাজক অতীতে ফিরে যাব?

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগ মেনে নেয়নি। অভিযোগ করা হয়েছিল যে বিচারপতি কে এম হাসান বিএনপিপন্থী। অথচ আজ যে শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হতে চাচ্ছেন, তিনি কেবল অনিরপক্ষই নন, খোদ আওয়ামী লীগের প্রধান। কোন ভরসায়, কিসের ভিত্তিতে-বিএনপি বা অন্য যে কোনো দল শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে? সংবিধান তো ঐশী বাণী নয় যে এটিকে পরিবর্তন করা যাবে না।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেকটি মানুষের মতো আমিও প্রশ্ন করতে চাই- সংবিধানের জন্য জনগণ, নাকি জনগণের জন্য সংবিধান? জনগণের আশা-আকাঙক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এ পর্যন্ত ১৫ বার আমাদের সংবিধান সংশোধিত হয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের সংবিধানে যদি ৯৮ বার সংশোধন এসে থাকে, তাহলে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে, আমরা কেন ষোড়শ সংশোধনী করতে পারবো না?

তারেক রহমান ১৮ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপি ও ১৮ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকের উদ্দেশ্যে বলছি, ইতিহাস ও রাজনীতির পালাবদল আমাদেরকে আজ এক অন্যরকম অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী থেকে আজ আমরা পরিণত হয়েছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সেনানীতে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও স্লোগানের মর্মার্থ আজ দেশবাসী পদে পদে অনুভব করছে।

তিনি বলেন, উজ্জ্বল প্রভাতের পূর্বে রাত যেমন গভীর ও অন্ধকার হয়, তেমনি আমাদের ওপর নেমে এসেছে অন্য দেশের তাবেদারিতে নিমজ্জিত জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগের গুম, খুন, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের স্টিমরোলার। আজ আমাদের লড়াই কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকা- নয়। আজ আমাদের লড়াই একটি বন্দী জাতির মুক্তির জন্য এক অশুভ আশীর্বাদপুষ্ট স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে।

তারেক রহমান বলেন, সেই অশুভ তৎপরতাই একদিন আমাকে আপনাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিল। আজও শারীরিক অসুস্থতার জন্য আমি সশরীরে আপনাদের মাঝে উপস্থিত নেই। তবে আমি প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে আপনাদের মাঝেই অনুভব করি। আপনাদের ওপর আসা আঘাত, আপনাদের ত্যাগ, আপনাদের সংগ্রাম আমাকে সর্বদা আচ্ছন্ন করে রাখে। আপনাদের প্রতি আমি আহ্বান জানাই, এখন সর্বশক্তি দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময়। আর নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা নয়। এখন থেকে লক্ষ্য একটাই- সকল ক্ষুদ্র বিভাজন ভুলে স্বৈরাচারী সরকার আর তার প্রহসনের নির্বাচনকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী আর অন্ধ সমর্থক ছাড়া প্রতিটি বাংলাদেশী নারী ও পুরুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। কেউ সশরীরে আছেন; আর বাকিদের সমর্থন, প্রেরণা ও দোয়া আমাদের সঙ্গে আছে। দেশের মানুষ রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তির কামনায় চেয়ে আছেন বিএনপির দিকে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দিকে। এতো জনসমর্থিত একটি আন্দোলনের সাফল্য ইনশাল্লাহ অনিবার্য। প্রয়োজন শুধু এই সংগ্রামকে- যা চলে আসছে আমাদের বিপুল ত্যাগ-তীতিক্ষা, বহু সহযোদ্ধা ও নিরপরাধ সাধারণ মানুষের প্রাণের মূল্যে- সেই সংগ্রামকে, এই দেশ ও জাতির স্বার্থে যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখা।

গণতন্ত্রের নমুনা ৭৯ গুলশান

ঢাকার গুলশানে কূটনৈতিক এলাকার ৭৯নং রোড। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের হাল দেখার জন্য এখন এটা একটা ভালো জায়গা। এখানে একটি বাসার দু’দিক আটকে রাখা হয়েছে ৫টি বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে। রয়েছে অসংখ্য পুলিশের অবস্থান। বাসার অপর    দিকটি রাশিয়ান দূতাবাসের উঁচু দেয়াল। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া গৃহবন্দি অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। তার সঙ্গে দেখা করতে আসা সমর্থকদের হয় গ্রেপ্তার করা হয়েছে অথবা আটক রাখা হয়েছে বা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরেক দফা শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আসন্ন সাধারণ নির্বাচন শুধুই নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। ৫ই জানুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। কিন্তু এর ফলাফল কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সবার জানা। খালেদা জিয়ার বিএনপি এবং তাদের অপর ১৭টি জোটভুক্ত দল নির্বাচন বর্জন করছে। আর নির্বাচন বর্জনে সুর মেলানোর জন্য সরকার জাতীয় পার্টির প্রধান এবং সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হাসপাতালে আটক করে রেখেছে। এরপর সব থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো জামায়াতে ইসলামী যাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না। ৯ কোটি ২০ লাখ যোগ্য ভোটারদের মধ্যে ৪ কোটি ৮৩ লাখ মানুষের ভোট দেয়ার প্রয়োজন হবে না। যারা ভোট দিতে পারছেন তারা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এবং তাদের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবেন। খালেদা জিয়া ২৯শে ডিসেম্বর গণ-সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন। ঢাকায় প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে আর এক হাজারেরও বেশি বিরোধীদলীয় সমর্থক-কর্মীকে আটকে করে পুলিশ তা বানচাল করে দেয়। কর্মসূচির দিন যেখানে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল, বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে সংবাদকর্মীরা শুধু সতীর্থ সংবাদকর্মীদের ক্যামেরাবন্দি করার সুযোগ পেয়েছেন। শহরের অন্যত্র বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের ভেতরে প্রতিবাদ করতে সমবেত হন যেখানে পুলিশ জলকামান আর সাউন্ড গ্রেনেড দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরে লাঠিসোটা হাতে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা গেট ভেদ করে সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে প্রবেশ করে বিরোধী সমর্থক আইনজীবীদের তাড়া করে এবং মারধর করে। নীরব দর্শকের মতো পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে। লাঠিয়াল কর্মীরা রাস্তায় নেমে পড়ে বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে সামনা-সামনি টক্কর দেয়ার জন্য। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে ওইদিনের সহিংসতায় মারা গেছেন ২ জন। ২৬শে ডিসেম্বর ৫০ হাজার অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করার পর থেকে নতুন করে বড় ধরনের রক্তপাতের ঘটনা ঘটেনি। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। অথচ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৯৯৬-এর ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ। এরপরই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা প্রণয়ন করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা দূর করে ২০১৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠান করাটা আওয়ামী লীগের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কার্যকর হলেও সামপ্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে প্রায় ৫ জনের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশীর অবস্থান এর বিপক্ষে। এখন বিএনপির অবস্থা একেবারেই এলোমেলো। শেখ হাসিনা আর আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের পতন নিজেরাই ডেকে নিয়ে আনবে তার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করণীয় নেই তাদের। গত কয়েক মাসে বিএনপি তাদের অবরোধ কর্মসূচি জোরদার করে। সপ্তাহে মাত্র একদিন বাদ রেখে বাকি সবদিন অবরোধ পালন করেছে তারা। তাদের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর সহিংসতায় নিহত হয় সাধারণ মানুষ। এদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সম্পদের হিসাব থেকে দেখা যায়, ২০০৮ সাল থেকে হাসিনার ভ্রাতুষ্পুত্রদের সম্পদ বেড়েছে ৩৩০ গুণ। কয়েকজন ধারণা করছেন একছত্র শাসক হিসেবে হাসিনা এক বছরের বেশি টিকতে পারবেন না। তারই একজন উপদেষ্টার মতে এটা স্বল্পব্যাপী হবে। একইসঙ্গে তিনি এ-ও যোগ করেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া সরকারের অন্য কোন উপায় নেই। ঢাকায় এখন ইতিমধ্যে বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে যে, পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন কিভাবে হবে। আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা স্বীকার করলেন, আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হবে যেখানে জয়ী হবে বিএনপি।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন তামাশার, অগ্রহণযোগ্য: সুজন

ঢাকা: আগামী ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তামশার এবং অগ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন।

তবে একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, অসাংবিধানিক পন্থায় যাতে কেউ ক্ষমতার দখল নিতে না পারে সেজন্যই ওইদিনের এই নির্বাচন করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন সুজন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ব্যতিত ভিন্ন কোনো আয়ের উৎস থাকার কথা নয়। সরকারের সঙ্গে কারো ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’

কিন্তু ইসির হলফনামায় অনেকেই ব্যক্তিগত ব্যবসা কিংবা সরকারি কাজের মাধ্যমে তাদের আয় বৃদ্ধির হিসাব দেখিয়েছেন। এমন হিসাব দেওয়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সুজন সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রহের মামলা হওয়া উচিত বলে মনে করে।

দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের নানা তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৫৩ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে কোনো নির্বাচনই হবে না। ৪১টি দলের মধ্যে মাত্র ১২ দল অংশ নিচ্ছে, তাও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ নিয়ে দোলাচল রয়েছে। এটা একটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন।’

সুজনের নির্বাহী সদস্য ড. শাহদীন মালিক নির্বাচনকে তামাশা আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘তামাশার জন্য যেমন অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকেন। তেমনি আমাদের অনেক সংসদ সদস্য আইন ভঙ্গ করে এই নির্বাচনে অভিনেতা-অভিনেত্রীর ভূমিকা পালন করছেন।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১৪৭ (৪) ধারায় বর্ণিত সরকারের মন্ত্রীসহ ৮টি পদে যারা আসীন আছেন, তাদের বেতন ছাড়া অন্যান্য আয় অর্জন নিষেধ এবং কোনো লাভজনক পদে আসীন হতে পারবেন না। অথচ আমরা দেখছি যে, গত পাঁচ বছরে আমাদের অনেক সংসদ সদস্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত থেকে তাদের সম্পদ অনেক গুণ বাড়িয়েছেন, যা সংবিধান সম্মত নয়।’

শাহদীন মালিক বলেন, ‘এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২-কে (শ)’ ধারা অনুযায়ী, সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে লিপ্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার এবং সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হলেও, এ ধরনের অনেক প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।’

বিষয়টি যাচাই পূর্বক নির্বাচন কমিশন কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যদিও এ নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক নয়, তারপরেও সুজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তথ্যের যে কাজটি করেছে, তা একটি রুটিন কাজ আখ্যায়িত করে বিচারপতি এবাদুল হক বলেন, ‘আমরা হলফনামায় প্রার্থী প্রদত্ত তথ্যের একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরেছি, যার উদ্দেশ্যই হলো- ভোটারদের ক্ষমতায়িত করা, যাতে তারা জেনে-শুনে-বুঝে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘কারো কারো কাছে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। তবুও এটার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর সেজন্যই নির্বাচটি হচ্ছে।’

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘সুজনের চেষ্টায় আদালত প্রার্থীদের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে। অথচ ক্ষমতাসীন দল সিটি রহিতকরণের প্রচেষ্টায় লিপ্ত, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এ সময় তিনি হলফনামায় প্রার্থীদের সম্পদের বর্তমান মূল্য উল্লেখ করারও দাবি জানান।

গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দশম নির্বাচনে প্রাথীদের অনেকেরই অস্বাভাবিক সম্পদ বাড়লেও দুদক বলছে সম্পদের তথ্য নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা নেই। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের এ ধরনের বক্তব্য কাম্য নয়। কারণ সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা হলে দুর্নীতি কমবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।’

অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, ‘দুর্নীতি হ্রাসে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরও সম্পদ এবং আয়করের তথ্য খতিয়ে দেখা উচিৎ। একই সঙ্গে তারা যে গাড়ি ক্রয় করেন, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার।’

ইঞ্জিনিয়ার মুসবাহ আলীম বলেন, ‘দেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এজন্য প্রয়োজন একটি স্থায়ী সমাধান।’

এ লক্ষ্যে সবাইকে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

‘পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হাসিনাকে ভারতের পরামর্শ’

বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের পর নিরাপত্তা এবং কূটনীতি দুদিক থেকেই পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এজন্য বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নতুন সরকার গঠন করলেও শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে দ্রুত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছে ভারত। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার জন্য ৫ জানুয়ারির আগেই ভারত কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে ঢাকায় পাঠাতে পারে।

বৃহস্পতিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকা আনন্দবাজারে নয়া দিল্লির কাছে বাংলাদেশ নিয়ে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট গেছে উল্লেখ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

আনন্দবাজার লিখেছে, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপি অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় গোটা লড়াইটাই একপেশে হয়ে গিয়েছে। ১৫৩টি আসনে ইতিমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে বসে রয়েছেন এক জন করে প্রার্থী। এর মধ্যে ১৩২ জনই শাসক আওয়ামী লীগের। বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া ‘কার্যত গৃহবন্দী’ বলে দাবি করেছে তার দল। বিএনপির অনেক নেতাই জেলে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে পশ্চিমি দুনিয়া। তাই এই দফায় সরকার গড়লেও খুব দ্রুত দেশে রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে আরো একটি সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ ঢাকাকে দিচ্ছে নয়া দিল্লি।

আনন্দবাজার লিখেছে, যে রিপোর্টটি সমপ্রতি সাউথ ব্লকে পৌঁছেছে তাতে বলা হচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে তার সঙ্গে চূড়ান্ত অসহযোগিতার পথে হাঁটবে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। কোনো কারণে এই সরকার পড়ে গিয়ে জামায়াত সমর্থিত বিএনপি সরকার আসে, তা হলে বিপুলসংখ্যক অনুপ্রবেশকারী মোকাবিলার জন্য ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তখন শুধুমাত্র হিন্দুরাই নন, অসংখ্য ধর্মনিরপেক্ষ মুসলমানও বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন। আর তাদের সহজ গন্তব্য হবে ভারত।

কূটনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে বোঝানো হচ্ছে উল্লেখ করে আনন্দবাজার লিখেছে, সব মিলিয়ে তাই একদিকে যেমন সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কোমর বাধা হচ্ছে, শরণার্থীদের প্রশ্নে কিছুটা মানবিকতার পথেই হাঁটার কথা ভাবা হচ্ছে, অন্য দিকে কূটনৈতিক স্তরে হাসিনা সরকারকেও বোঝানো হচ্ছে, পরিস্থিতির রাশ ধরার জন্য সংবেদনশীল পদক্ষেপ করতে হবে। কেননা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘতম সীমান্তের ভাগীদার ভারতের পক্ষেও অবস্থাটা আদৌ অনুকূল নয়। বিষয়টির নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিকদু’রকম দিকই রয়েছে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামকে দমনের জন্য জরুরি অবস্থা জারিকে একটি উপায় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর জঙ্গিপনা পুরোপুরি শেষ করে দেয়ার জন্য প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারি করা একটি উপযোগী পন্থা হিসেবে মনে করছে শেখ হাসিনা সরকার। তাদের দাবি, সে ক্ষেত্রে এক দিকে নির্বিঘ্‌েন যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বিরোধীদের লাগাতার হরতাল-অবরোধ বন্ধ হওয়ায় জনজীবন স্বাভাবিক হবে। মানুষও স্বস্তি পাবেন। পশ্চিম বিশ্বের পক্ষেও বাংলাদেশ-বিরোধী অবস্থান নেয়া সহজ হবে না। কিন্তু ঢাকা এ কথা মনে করলেও এই পরিস্থিতি যে দীর্ঘদিন চলতে পারে না, সে কথাই বলা হচ্ছে রিপোর্টে।

আনন্দবাজার জানায়, চলতি পরিস্থিতির মোকাবিলায় হাসিনা সরকারকে জরুরি অবস্থা জারি করতে হতে পারে, এমন কথাই বলছে ওই রিপোর্ট। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে সে দেশের সংবিধান অনুসারে চার মাস পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে সরকার।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ হিংসামুক্ত আবহাওয়ায় একটু নিঃশ্বাস নেয়ার অবকাশ পাবেন। ব্যবসায়ী সমপ্রদায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন, জিনিসের অগ্নিমূল্যও কমবে। যুদ্ধাপরাধীদের একের পর এক ফাঁসি হলে হয়তো আবার উন্মত্ত হতে পারে জামায়াত। কিন্তু সে ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থাকে আরো কিছু দিন বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে সরকার। পশ্চিমের পক্ষেও বিরোধিতা করা কঠিন হবে।

কিন্তু এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলুক, ভারত তা চাইছে না। আর সে কথাটাই বোঝানোর কথা ভাবা হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকারকে।

আনন্দবাজার প্রতিবেদনে লিখেছে, সীমান্ত সিল করে দেয়া অথবা শরণার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করা আপৎকালীন তৎপরতা হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদিভাবে এই চাপের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা নয়া দিল্লির কাছে যেমন সহজ নয়, তেমনই কাম্যও নয়। পূর্ব উপকূলকে কাজে লাগিয়ে ভারতে জঙ্গি পাচার করার জন্য মুখিয়ে রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। সুতরাং বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি ভাবে জঙ্গিপনার দিকে হাঁটুক, এটা কিছুতেই চায় না সাউথ ব্লক। আর তাই আমেরিকার সঙ্গে সামপ্রতিক আলোচনায় পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংহ জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেয়া হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই জামায়াতকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ নিয়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানগত পার্থক্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘ দৌত্যের পরেও যে আমেরিকা সুর নরম করেনি, তা এখন স্পষ্ট। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা খোলাখুলিই জানিয়েছেন, নির্বাচন হওয়া উচিত অবাধ এবং নিরপেক্ষ। আসন্ন ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকায় যে আমেরিকা আদৌ সন্তুষ্ট নয়, সে কথাও বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমি দুনিয়া বলছে, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা।

খালেদার বিরুদ্ধে মানহানির দ্বিতীয় মামলাও খারিজ

গোপালগঞ্জের নাম বদলে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ফের খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর শুনানি শেষে মামলা খারিজ করে দেন।

এর আগে বুধবার সকাল ১০টায় এ আদালতে দন্ডবিধির ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান মোল্লা। আদালতে তার পক্ষে ছিলেন এডভোকেট ননী গোপাল।

এর আগেও মঙ্গলবার একই অভিযোগে বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী একটি মামলা দায়ের করেন। তবে একই আদালত সেটি খারিজ করে দেন।

প্রসঙ্গত, ২৯ ডিসেম্বর রোববার ১৮ দলের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিকেলে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে বাধা দেয়।

এ সময় খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্যের আচরণে ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে দেশ কোথায় জানতে চেয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশ কোথায়, গোপালী? গোপালগঞ্জের নামই বদলে যাবে। গোপালগঞ্জের নামই থাকবে না। যারা এসব করছেন, আপনাদের ওপর আল্লাহর গজব পড়বে।’

১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে লাগাতার অবরোধ

১লা জানুয়ারি বুধবার থেকে সারাদেশে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১৮ দলীয় জোট। আগামীকাল সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার রাত সোয়া ৮টার রাজধানীর বারিধারার নিজস্ব বাসভবনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, পয়লা জানুয়ারি ভোর ছয়টা থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

এছাড়া বিরোধী দলের ডাকা মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তিনি।

‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ সোমবারও চলবে: খালেদা জিয়া

১৮ দল ঘোষিত গণতন্ত্রের অভিযাত্রা বা মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি আগামীকালও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জোটনেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

রোববার বিকেল চারটার কিছু সময় আগে গুলশান-২ এর বাড়ির সামনে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। পুলিশি বাধায় বের হতে না পেরে খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের কাছে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, “সংসদ এখনো বহাল আছে। আমি এখনো বিরোধীদলীয় নেতা। আপনারা কেন আমার সঙ্গে এমন আচরণ করছেন। আপনারা আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখতে পারেন না। দেশের মানুষ কষ্টে আছে। তাদের নিরাপত্তা দিন। আওয়ামী লীগের গুন্ডাবাহিনী জনগণের ওপর নির্যাতন করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ”

এর আগে খালেদা জিয়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তার বাসার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে এগোতে পারেননি।

খালেদা গৃহবন্দি

 গৃহবন্দি বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তার বাসভবন ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ প্রটোকল প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। ব্যারিকেড সরিয়ে খালেদা জিয়া আজকের কর্মসূচিতে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তা আটকে দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা  বাহিনী। তার বাসভবনের সামনের দু’দিকের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে দু’টি বালুভর্তি ট্রাক। বিরোধীদলীয় নেতার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা অনুসারে প্রাপ্য পুলিশি প্রটোকল প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সমস্ত প্রটোকল ও পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে তাদের বদলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, মহিলা পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি অবস্থান নিয়েছে। অফিস অভিমুখে যাওয়ার রাস্তা দু’টি বন্ধ করে সেখানেও অসংখ্য র‌্যাব ও বিজিবি অবস্থান করছে। এছাড়া, রাস্তার দু’ধারেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ভাই মরহুম সাঈদ এস্কান্দারের ছেলের বিয়েতে যোগদানের জন্য তার প্রথমে গলফ ক্লাবে ও পরে গুলশান কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাতে বিকল্প ধারা প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ও জাসদ (রব) সভাপতি আসম আবদুর রবের নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নামে নবগঠিত রাজনৈতিক জোটের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। এদিকে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’কে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে খালেদা জিয়ার বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন ছাড়া কোন নেতাকর্মীকে বাসভবনে ঢুকতে দেয়া হয়নি। নেতাকর্মীদের কয়েকজনকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেয়া হয়। কাউকে কাউকে আটক করে পৌঁছে দেয়া হয় তাদের বাসায়। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কয়েক ঘণ্টা একাকী অপেক্ষা করতে হয় খালেদা জিয়াকে। পরে তার সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা সাক্ষাৎ করেন। গতকাল বিকালে তার বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সূত্র জানায়, রাত ৮টার দিকে দু’টি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাসভবন থেকে বেরোনোর প্রস্তুতি নেন খালেদা জিয়া। এ সময় তার নিরাপত্তার দায়িত্বরত পুলিশের প্রটোকলকে ডাকা হয়। পুলিশ প্রটোকলের গাড়ি সেখানে গেলে তাদের সরিয়ে দেয় খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে অবস্থানরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে ভাইপোর বিয়ের অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে যেতে পারেননি বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। এর আগে শুক্রবার তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে এক ভিডিও বার্তায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমি উপস্থিত হতে না পারলেও সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যে কোন মূল্যে নয়া পল্টনে সমাবেশে খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনের রাস্তা দু’টি বালু বোঝাই ট্রাক দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়। ট্রাকের একজন চালক জানান, গাবতলী থেকে ট্রাক দু’টি বালু বোঝাই করে বনানীর একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের গাবতলী থেকে বিরোধী নেতার বাসার সামনে নিয়ে আসে। তাদের বলা হয়েছে আগামীকাল পর্যন্ত গাড়িগুলো সেখানে থাকবে। মহিলা পুলিশ কেন আনা হয়েছে- জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার নুরুল আলম বলেন, বিরোধী দলের নেত্রীর অধিকতর নিরাপত্তার জন্যই সেখানে মহিলা পুলিশ রাখা হয়েছে। তবে খালেদার যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোন বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে না। ওদিকে বিরোধী নেতার প্রটোকল প্রত্যাহারের নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাত ৮টা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে তার বাসভবনে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাকে তার গুলশানের কার্যালয়ে যেতে দেয়া হচ্ছে না। বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে তার বাসভবন ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। বাসার সামনে ট্রাক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক গাড়ি এলোপাতাড়ি করে রেখে রাস্তার দু’পাশে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। মির্জা আলমগীর  বলেন, আমি সরকারের এহেন ন্যক্কারজনক ও চরম ফ্যাসিবাদী আচারণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি, বিরোধীদলীয় নেতার নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের সরকার অবৈধ ও বেআইনিভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমি অবিলম্বে বিরোধীদলীয় নেতার সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক  চলাফেরা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। অন্যথায় উদভূত পরিস্থিতির সরকারকে দায়িত্ব বহন করতে হবে। অবিলম্বে বিরোধী নেতার বাসভবনের সামনে থেকে ব্যারিকেডসহ অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সরিয়ে দেয়ার দাবিও জানান তিনি। এদিকে রাত সোয়া ১০টায় রুহুল আমিন গাজী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ ও ইলিয়াস খানসহ ৬ সাংবাদিক নেতা খালেদা জিয়ার বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

টার্গেট ঢাকা
টার্গেট ঢাকা। সরকার ও বিরোধী দল দু’পক্ষের দৃষ্টিই রাজধানীতে। রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করে নির্দলীয় সরকারের দাবির জানান দিতে প্রস্তুত বিরোধী দল। এ লক্ষ্য নিয়েই আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি। সারা দেশ থেকে জাতীয় পতাকা হাতে নয়া পল্টনমুখী বিরোধী কর্মী-সমর্থকরা। কর্মসূচি সফল করতে দৃঢ় অবস্থানে বিরোধী জোট। যে কোন মূল্যে এ গণতন্ত্রের অভিযাত্রা সফল করতে চায় তারা। তাদের সমর্থন করছেন দুই জোটের বাইরে থাকা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে প্রতিহতের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার রাজপথে অবস্থান নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। সরকার ও বিরোধী দলের এমন মুখোমুখি অবস্থানে জনমনে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। এদিকে ঢাকামুখী বিরোধী নেতাকর্মীদের স্রোত ঠেকাতে তৈরি করা হয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। বিরোধী দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকামুখী সব বাস-লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকা অভিমুখে দেশের কোনপ্রান্ত থেকেই চলাচল করতে পারেনি বাস-ট্রাক। চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট ও খুলনাসহ বেশির ভাগ মহাসড়কে ছিল অঘোষিত অবরোধ। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছেড়ে আসা স্বল্প সংখ্যক বাসও ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, কুমিল্লা, ফরিদপুর থেকে। অবরোধের মধ্যে আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি শিকার করে চালানো হয়েছিল ট্রেন। বিনা ঘোষণায় গতকাল বন্ধ ছিল নানা রুটের ট্রেনের চাকা। তল্লাশি ছাড়াও মধ্যপথ থেকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে ট্রেন। নৌপথ রুখতে লঞ্চ মালিকদের চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। লঞ্চগুলো নোঙর করানো হয়েছে মাঝনদীতে। বন্ধ রাখা হয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি ও সিপড বোট সার্ভিস। ‘ঢাকামুখী গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিতে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে সরকারের তরফে। এই কারণে বাস-লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে মালিকরা জানিয়েছেন। তবে বিএনপির অভিযোগ, বিরোধী দলের কর্মসূচি বানচাল করতে বাস-লঞ্চ বন্ধ করে সরকারই ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। যান চলাচল বন্ধ থাকলেও থেমে নেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশমুখেই বসানো হয়েছে পুলিশের একাধিক তল্লাশি চৌকি।  নাশকতার আশঙ্কায় থাকা পুলিশ সদস্যরা কাউকে সন্দেহভাজন মনে করলেই গাড়ি থেকে নামিয়ে দিচ্ছেন। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে শ’ শ’ কর্মী-সমর্থককে। মহাসড়কে পুলিশের এ তল্লাশির পাশাপাশি টহল দিতে দেখা যাচ্ছে সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে। তবু থেমে নেই গণতন্ত্রের অভিযাত্রা। খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সারা দেশ থেকে ১৮ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকরা গতকাল ঢাকায় এসেছেন। মার্চ ফর ডেমোক্রেসি সফল করতে সারা দেশ থেকে রাজধানী ঢাকার দিকে ঢল নেমেছে মানুষের। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি ও তীব্র শীত উপেক্ষা করে, মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে, বাইসাইকেলে চড়ে, নৌকা-ট্রলারে করে ছুটে আসছেন রাজধানীর দিকে। গণগ্রেপ্তারেও থেমে নেই রাজধানীমুখী জনস্রোত। নৌপথে ছোট ছোট বোটে করে ঢাকায় এসেছে বহু সংখ্যক নেতাকর্মী। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অনেক নেতাকর্মী সপরিবারেও ঢাকায় এসেছেন। কষ্ট শিকার করে নানা কৌশলে ঢাকা ঢুকছেন বিরোধী নেতাকর্মীরা। সারা দেশ থেকে কর্মসূচিতে আসা নেতাকর্মীরা সেখান থেকেই রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশাসহ নানা ভাবে ঢুকছেন রাজধানীতে। ঢাকা প্রবেশের পথ বন্ধ, এলেও দুর্ভোগ। যারা বিভিন্নভাবে ঢাকায় পৌঁছতে পেরেছেন, তাদের জন্য নতুন দুর্ভোগ হয়ে দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটে বাসের অভাব। সেই সঙ্গে পুলিশের ‘নির্দেশে’র কারণে আবাসিক হোটেলগুলোতেও উঠতে পারছেন না তারা। রাজধানীসহ সারা দেশে অব্যাহত রয়েছে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা কর্মসূচির অনুমতি মেলেনি পুলিশের তরফেও। রাতে বিরোধী নেতাকে বাধা দেয়া হয়েছে বাসভবন থেকে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যেতে। তুলে নেয়া হয়েছে পুলিশ প্রোটেকশন। তবে অনুমতি না মিললেও ঘোষিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অনড়। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল সন্ধ্যায় এক ব্রিফিংয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, আজকের সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। গণতন্ত্র রক্ষার এই সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। যে কোন মূল্যে এই সমাবেশ সফল করা হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট বারের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, পল্টনে গণতন্ত্রের উৎসব হবে আর সরকারের হবে পতন। সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা সেদিন প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু পিছপা হবো না। ইতিমধ্যে সারা দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় পৌঁছেছেন। হাজার হাজার মানুষ ঢাকার পথে। কাল ঢাকায় মানুষের ঢল নামবে। ওদিকে ক্রিকেট স্ট্যাম্পে পতাকা বেঁধে মিছিল, সাংগঠনিক ১০০টি ওয়ার্ড ও ১৮টি ইউনিয়নে লাঠি হাতে অবস্থান ও ভোর থেকে রাজধানীর আটটি পয়েন্টে পাহারা দেবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা যাতে রাজধানীতে ঢুকতে না পারে সে জন্য নেতা-কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাজধানীতে একটি মাছিও ঢুকতে দেয়া হবে না। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘মার্চ ফর ডেস্ট্রাকশন অব ডেমোক্রেসি’ করতে দেয়া হবে না।
টার্মিনালে যানসঙ্কট, যাত্রীদের অপেক্ষা
রাজধানীর প্রধান তিন টার্মিনাল সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি গতকাল ঢাকার বাইরে থেকে কোন বাস টার্মিনালেও আসেনি। টার্মিনালে গিয়ে অধিকাংশ বাস কাউন্টার বন্ধ পাওয়া যায়। শুক্রবার বিকাল থেকেই অনেক জেলা থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে রাজধানী থেকেও ছেড়ে যাচ্ছে না কোন গণপরিবহন। রাজধানীর গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে শুক্রবার রাত থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে গতকাল সকাল থেকে কোন বাস ছেড়ে যায়নি। ঢাকার বাইরে থেকেও আসেনি। ৫০০টির মতো বাস ঠায় দাঁড়িয়ে আছে টার্মিনালে। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ১৮-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা যাতে বাস ভাড়া করতে না পারেন, সে জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কয়েকটি জেলায় মাইকিং করে বাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন সরকার-সমর্থক পরিবহন নেতারা। পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে এমপি আসলামুল হকের ভাই মফিজুল হকের বাসায় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ডেকে বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে বাস না চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়। একইভাবে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বৈঠক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ময়মনসিংহগামী শ্যামলী বাংলার চালক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি ধর্মঘট না বিএনপির ধর্মঘট বুঝতেছি না। কাল বেলা তিনটায় রওয়ানা দিয়া ঢাকায় পৌঁছছি রাত সাড়ে ১১টায়। সকালে উইঠ্যা শুনলাম গাড়ি যাইবো না। তবে কাল প্রচুর মানুষ ঢাকায় আসছে। চার ঘণ্টার রাস্তা পারাইতে আট ঘণ্টা লাগছে। সোনার বাংলা পরিবহনের এক চালক বলেন, গাড়ির মালিকদের বেশির ভাগই সরকার দলীয় নেতা। বিরোধী দলের কর্মসূচি থাকায় তারা ইচ্ছে করে গাড়ি চালাচ্ছেন না। আরেক চালক লাল্টু খান বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি থাকলেই শ্রমিক সংগঠনের নাম করে ধর্মঘট ডাকা হয়। মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত বাস ‘রিক্যুইজিশন’ দেয়ার ভয়ে গাড়ি বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা বলেন, পুলিশের জিম্মায় থেকেও গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কার ভরসায় গাড়ি নামাবো রাস্তায়? ওদিকে সায়েদাবাদ থেকে কিশোরগঞ্জ ও আশেপাশের জেলার রুটে সকালে কিছু বাস ছেড়েছিল। তবে নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বাসগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। গাবতলীতে দক্ষিণাঞ্চলগামী এসপি গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারের ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামান বলেন, রাতে যেসব গাড়ি যশোর-সাতক্ষীরা থেকে ছেড়েছে, সেগুলো ঢাকায় পৌঁছেনি। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি চলাচল বন্ধ রাখায় ব্যক্তিগত মালিকানাধীন যানবাহনগুলোকে ঢাকা পৌঁছাতে হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে। ঢাকা-বান্দুরা রুটের বাসের এক কর্মকর্তা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলেছেন- নিরাপত্তার কারণে ২৮ ও ২৯শে ডিসেম্বর গাড়ি বন্ধ রাখতে। কিশোরগঞ্জের এক বাস মালিক বলেছেন, বাস না চালাতে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে বাগেরহাট ও কক্সবাজারে শ্রমিকরা আকস্মিক ধর্মঘট ডেকে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। তবে বিএনপির অভিযোগ বাস চলাচল বন্ধ করতে সরকারের মদতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। বাসের মতো বাইরে থেকে লঞ্চও তেমন আসেনি ঢাকার সদরঘাটে। অন্যদিন সকালে ঢাকার প্রধান নৌবন্দরে অর্ধশত লঞ্চ দক্ষিণের জেলাগুলো থেকে ভিড়লেও গতকাল তার সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। সদরঘাটে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নাশকতার আশঙ্কায় লঞ্চ বন্ধ রাখার কথা বললেও এমভি টিপু লঞ্চের ব্যবস্থাপক  ফারুক হোসেনের অভিযোগ, পুলিশের তল্লাশির কারণে যাত্রী সংখ্যা কম। তাই লঞ্চ চলছে না।
তল্লাশি চৌকি, মহড়া
১৮ দলের আজকের কর্মসূচি মোকাবিলায় রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন জেলায় চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি বিভিন্ন স্টেশনে অবস্থান নিয়ে পাহারা দিয়েছে সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকরা। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকায় প্রবেশের মুখ সাভারের আমিনবাজার, রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর, সিংগাইর সেতু, ধামরাই, কালামপুর বাসস্ট্যান্ড, জিরানী বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, জিরাব, আশুলিয়া বাজার ও নবীনগর বাসস্ট্যান্ড, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড় গোল চত্বর, দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রবেশের মুখ মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু, উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে প্রবেশপথ কাঁচপুর, রূপগঞ্জ ও নরসিংদীর মাধবদীসহ ঢাকা প্রবেশের নানা জায়গায় চৌকি বসিয়ে দিনভর তল্লাশি চালিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। এদিকে গাবতলীতে সড়কের এক পাশে চেয়ার পেতে অবস্থান নেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতারা। দারুস সালাম থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, বিএনপি যে কর্মসূচি দিয়েছে, সেটা ধ্বংসাত্মক। সেটা মোকাবিলার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে এখানে অবস্থান করবো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে জনগণকে সচেতন করবো।

রাজধানীর সাথে সারাদেশের সড়ক-নৌ যোগাযোগ বন্ধ

রাজধানীর সাথে সারাদেশের সড়ক ও নৌ পথের যোযোগ বিচ্ছিন্ন। শুক্রবার সকালে দেশের বিভিন্ন এলাকার যান চলাচল কিছুটা বন্ধ হলেও সন্ধ্যার পর থেকেই পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় সব রুটের যান চলাচল। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের রবিারের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে প্রতিহত করতেই সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্দেশেই পরিবহন মালিকরা সব রুটের যান চলাচল বন্ধ করে দেন বলে জানাগেছে।

শুক্রবার বিকালের পর রংপুর বিভাগের আট জেলা, বরিশাল, ভোলা, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে দূরপাল্লার কোনো যান ছেড়ে আসেনি। বরিশাল এবং ভোলা থেকে লঞ্চ চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

বরিশাল : বরিশাল-ঢাকা রুটের বাস চলচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. আফতাব হোসেন জানান, নাশকতার আশঙ্কায় মালিকপক্ষ নিজেরাই বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া ঘণকুয়াশার কারণে ফেরি চলাচলও বন্ধ রয়েছে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বিরোধী দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ বাস চলাচল সচল করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

অপরদিকে শুক্রবার সকাল থেকে ভোলা-লক্ষীপুর-ঢাকা রুটে ও ভোলা-বরিশাল রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্পিডবোট, ইঞ্জিন নৌকা, বাস সি-ট্রাক, ফেরিসহ সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সকাল থেকে ভোলার ইলিশা ফেরি ঘাট, ভেদুরিয়া লঞ্চ ঘাট ও ফেরিঘাটে কয়েক হাজার দূরপাল্লার যাত্রী আটকা পড়েছে। দূর দূরান্ত থেকে আসা এসব যাত্রী সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি ঘাটে অপেক্ষা করছে। কেউ কেউ আবার বাড়ি ফিরে গেছে। ভোলা-লক্ষীপুর রুটের এমভি মাহিমা লঞ্চের মাস্টার জানান, সকালে পুলিশ ঘাটে গিয়ে তাদেরকে এ ঘাট থেকে আগামী দুদিন লঞ্চ না ছাড়ার জন্য নির্দেশ দেয়। তাই তারা লঞ্চ ছাড়তে পারছে না। এছাড়া সরকারি সি-ট্রাক ও ফেরিও চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলা ইলিশা তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আবু সাইদ বলেন, লঞ্চ ছাড়তে পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে নিষেধ করা হয়নি। কেন তারা লঞ্চ-ফেরি চালাচ্ছে না তা তারা জানেন না। পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা জেলা থেকেও কোনো গাড়ি ও লঞ্চ ছেড়ে আসছে না ঢাকার উদ্দেশ্যে।

যশোর : যশোর থেকে দেশের রাজধানী অভিমুখে যাত্রীবাহী পরিবহনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। যাত্রীরা পরিবহন কাউন্টারে এসে টিকিটের অভাবে ঢাকা যেতে পারছে না। দিন ও রাতের সব পরিবহনের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানানো হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বিরোধী দলের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি বানচাল করার জন্যই পরিবহন মালিকদের পরিবহন না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির ভয়ে পরিবহন মালিকরা খুব কম পরিবহন ছাড়ছেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকার পরিবহন মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবহন ছাড়তে দিচ্ছে না। তাদের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি যাতে সফল না হয় তার জন্য টিকিট সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

যশোরের পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছে, যশোর থেকে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিনশ পরিবহন ঢাকায় যায়। এসব পরিবহনে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ রাজধানীতে যায়। গত তিন দিন ধরে এ রুটের প্রায় সব পরিবহনেই টিকিট হাওয়া হয়ে গেছে। ফলে অনেকে জরুরি কাজে রাজধানীতে যেতে পারছে না। পরিবহন টিকিট সংকট প্রসঙ্গে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, ১৮ দলীয় জোটের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি বানচাল করার জন্য সরকার পরিবহন চলতে দিচ্ছে না। যা দুএকটি চলছে তাতেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা : প্রশাসনের নির্দেশে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর থেকে ঢাকাগামী সব ধরণের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার বাস মালিকরা। দুপুর থেকে ঢাকাগামি বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানান তাঁরা। চুয়াডাঙ্গা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে ঢাকার বাস কাউন্টার গুলো যাত্রীশূণ্য। দুটি পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জানান, বেলা ১০ টা পর্যন্ত তাঁরা অন্য দিনের মতো গাড়ি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়েছেন। কিন্তু দুপুরের পর প্রশাসন থেকে জানানো হয় আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনিবার্যকারণবশত বাস চলাচল বন্ধ রাখতে হবে ।

এদিকে বেলা ২টার দিকে মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গা হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি বাস ছেড়ে আসলে আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী পথিমধ্যে বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে সেটিকে মেহেরপুর ফেরত পাঠায় বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম ।

রাজশাহী : ১৮ দলের ‘ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর রাজশাহী কাউন্টার থেকে কোনো বাসই আর ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। সন্ধ্যার পরের যেসব টিকিট বিক্রি হয়েছিলো তা ফেরত দেয়া হয়।

রাজশাহীস্থ ঢাকা কোচ কাউন্টারের কর্মচারিরা জানান, শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। রাজশাহী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবি জানান, ফেডাশেনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুধুমাত্র রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে। এদিকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী রাত্রিকালীন ধুমকেতু এঙপ্রেসের যাত্রাও বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাতিল করা হয়েছে।

পিরোজপুর : শুক্রবার সকাল থেকে পিরোজপুর থেকে ঢাকাগামী সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতেও চালানো হয়েছে পুলিশী তল্লাশি। হঠাৎ করে পরিবহন বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিবহন মালিক জানান, তাদেরকে শুক্রবার থেকে গাড়ি না ছাড়ার জন্য জানানো হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুরের ঢাকা বাস কাউন্টার পরিদর্শন করেছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।

অন্যদিকে পিরোজপুরের হুলারহাট বন্দর থেকে ১৪ দলীয় জোটের এক এমপির একটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে বিএনপি মালিকানাধীন অগ্রদুত প্লাস ও রনদূত নামের দুটি লঞ্চকে পথে আটকে দেয়া হয়েছে বরে বিএনপি অভিযোগ করেছে। জেলা বিএনপির সম্পাদক আলমগীর হোসেন জানান, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের লঞ্চগুলোকে আটকে দেয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলা থেকে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার বিকাল থেকে ঢাকামুখী যান চলাচল না করায় এ অচালাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন রংপুর থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা। চালককে পুড়িয়ে হত্যা, সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে চালকরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখেছে বলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রংপুর বিভাগীয় সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন বাদল জানিয়েছেন। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও আভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

এ শ্রমিক নেতা জানান, সরকার চালক হ্যাত্যারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারলে ২৯ তারিখের পর চালকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী সিন্ধান্ত জানানো হবে। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক ফেডারেশেনের কোনো হাত নেই। চালকরা নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছে।অপরদিকে বিএনপির জেলা আহ্বায়ক মোজাফ্‌ফর হোসেন জানান, সরকার ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ বাতিল করার জন্য শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের দিয়ে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরো জানান, তারা যে কোনো মূল্যে ঢাকার অভিমুখে রওয়ানা হবেন। রংপুর মহানগর থেকে ১০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। এদিকে আকস্মিক এ যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় রংপুর বিভাগের হাজার হাজার যাত্রী বিপাকে পড়েছে।প্রশাসনে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, সরকারের পক্ষ এ বিষয়ে কোনো চাপ নেই। যান চলাচল বন্ধের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। এই চলাচলা বন্ধ হওয়ায় গাইবান্ধাসহ ৮ জেলার ১৮ দলীয় নেতাকর্মারা ঢাকা যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ঝালকাঠি : ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত ‘মার্চ ফর ডেমক্রেসি’ কর্মসূচীতে যোগদানে বাধা ও গ্রেপ্তারের আশংকায় ঝালকাঠির জেলা বিএনপি সহ ১৮ দলীয় নেতৃবৃন্দ গত দুদিন ধরে বিভিন্ন পন্থায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যেতে শুরু করেছে। তবে তারা দলবদ্ধ ভাবে না গিয়ে বিচ্ছিন্ন ও পৃথক ভাবে ঢাকায় পৌছার কৌশল গ্রহন করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে শুক্রবার ঝালকাঠি-ঢাকা রুটে চলাচলকারী লঞ্চ সহ সকল পরিবহনের গাড়ী মালিক পক্ষ নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় কাউন্টার প্রতিনিধিরা জানিয়েছে। ইতিমধ্যে কাঠালিয়া উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ ও ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি আউয়াল হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া জেলার পুলিশ প্রশাসন এ কর্মসূচীকে সামনে রেখে সতর্ক অবস্থানের রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে ঝালকাঠি-ঢাকা রুটের চলাচলকারী সকল পরিবহন কোম্পানীর মালিক পক্ষ শুক্রবার থেকে তাদের গাড়ী  চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বলে সাকুরা পরিবহনের কামাল মল্লিক ও ইগল পরিবহনের আব্দুস সামাদ সহ স্থানীয় কাউন্টার প্রতিনিধিরা জানিয়েছে। ফলে শুক্রবার থেকে ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের গাড়ী বন্ধের পাশাপাশি ঝালকাঠি-চিটাগং রুটের গাড়ীও চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ১৮দলীয় নেতাকর্মি ছাড়াও সাধারন মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে।

খুলনা : কুয়াশার কথা বলে খুলনা থেকে ঢাকাগামী সকল যান বন্ধ রয়েছে। কাউন্টার থেকে যাত্রীদের বলা হচ্ছে কুয়াশার কারণে বাস চলাচল ব্যহত হচ্ছে। তাই বাস যাচ্ছে না। বিভাগের অন্যান্য জেলা গুলো থেকেও ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ি ছেড়ে আসছে না।

রাজশাহী : আগামী ২৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের ঢাকামুখী অভিযাত্রাকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কায় রাজশাহী-ঢাকা রুটের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার পর থেকে থেকে ওই রুটের সব ধরণের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাজশাহী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাজশাহী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান পিটার জানান, নিরাপত্তার আশংকায় সকাল থেকে রাজশাহী-ঢাকা রুটের বিলাসবহুল যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্যগুলোও বন্ধের ব্যাপারে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মালিকগ্রুপের বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কোনো বাধা নেই বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবি জানান, ঢাকামুখী অভিযাত্রা যে কোনো মূল্যে সফল করার উদ্যোগ নিয়েছে ১৮ দল। একইভাবে তা প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল।

এ নিয়ে নিরাপত্তার আশংকায় বৃস্পতিবার বিকাল থেকে শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলার সঙ্গে ঢাকার বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালের পর থেকেই ঢাকামুখী সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন সুপারিনডেনডেন্ট আব্দুল করিম জানান, ঢাকাগামী আন্তনগর পদ্মা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে তা রাত ৮টায় রাজশাহী স্টেশন ছেড়ে যাবে। চার ঘন্টা বিলেম্বে চলছে ট্রেনটি। এছাড়া আন্তঃনগর ধুমকেতু ও সিল্কসিটি এঙপ্রেস ট্রেন দুটিও সিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।

রংপুর : শুক্রবার দুপুর থেকে রংপুর বিভাগের ৫৬টি উপজেলায় দূরপাল্লার সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক-মহাসড়কে নাশকতার আশঙ্কায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রংপুর বিভাগীয় সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন বাদল। এর ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন রংপুর থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা। শ্রমিক নেতা বাদল জানান, বাস চালকদের পুড়িয়ে হত্যা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দাবিতে চালকরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকার চালক হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে পারলে ২৯ তারিখের পর চালকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এদিকে আকস্মিক এ যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় রংপুর বিভাগের হাজার হাজার যাত্রী বিপাকে পড়েছে। রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোজাফ্‌ফর হোসেন জানান, সরকার ২৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রেসি বাতিল করার জন্য শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের দিয়ে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। তারা যে কোনো মূল্যে ঢাকার অভিমুখে রওয়ানা হবেন বলে জানান মোজাফফর।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিকালে বেশ কিছু গাড়ি ছেড়ে গেছে। তবে পরিবহন ও বিআরটিসি বাস চললেও রিজার্ভ করে কেউ গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছে না।

মেহেরপুর : ১৮ দলীয় জোটের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সফল করতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী মেহেরপুর থেকে ঢাকায় যাবেন বলে জানিয়েছেন ১৮ দলীয় জোটের নেতারা। ইতোমধ্যে কয়েক’শ নেতাকর্মী ঢাকা পৌঁছিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। তবে বাকিদের যাওয়ার বিষয়টি অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার দুপুর হতে মেহেরপুর থেকে দুরপাল্লার পরিবহণ চলাচল আকস্মিক বন্ধ হয়ে গেছে। নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকা যেতে না পারে তার জন্য ঢাকাগামী সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ জোট নেতাদের। তবে বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলছেন বন্ধ করা হয়নি। পথে নিরাপত্তার অভাব ও যাত্রী না পাওয়ায় দুুপুর থেকে দূরপাল্লার পরিবহণ তেমন চলাচল করছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহণের এক কাউন্টার মাস্টার জানান, যাত্রী থাকা সত্ত্বেও উপরের নির্দেশে মেহেরপুর থেকে দূরপাল্লার সকল পরিবহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে ছুটিতে পাঠিয়ে সঙ্কট সমাধানে তারানকোর সুপারিশ

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ও সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো তার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রধান দুই দলের মধ্যকার সমঝোতা প্রচেষ্টা নিয়ে তৈরি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

চলতি সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কয়েক দফা সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদনটি মহাসচিব বান কি মুনের কাছে জমা দেন। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তবে কূটনীতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তারানকো সঙ্কট সমাধানে চারটি মৌলিক প্রস্তাব পেশ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সঙ্কট সমাধান করতে হলে অবিলম্বে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি প্রদান, তাদের অফিস খুলে দেয়াসহ স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম চালু রাখা, সভা সমাবেশকে বাধা না দেয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ছুটি দেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে একজন নিরপে ব্যক্তি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে দুই পক্ষেরই লোক থাকবেন। তবে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে দু’জন নিরপেক্ষ ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করবেন।

তারানকো জানিয়েছেন, দুই দলের সমঝোতা প্রচেষ্টা ভেঙে যাওয়ার পর সঙ্কট সমাধানে নতুন এই উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

তিনি বলেছেন, এই প্রস্তাবে দুই পক্ষ সম্মত না হলে জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন দেশে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার যে পদ্ধতি রয়েছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকারে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিরা থাকবেন। জাতিসঙ্ঘের একটি কমিটি সার্বিক বিষয় তদারকি করবেন।

এর পরও সমাধান না হলে জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে জাতিসঙ্ঘের চ্যাপ্টার ৭ অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সুপারিশ করেছেন তিনি।

ইসি চাইলে বিএনপির গণজমায়েত হবে: ওবায়দুল

ঢাকা: যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের বলেছেন, বিএনপির ২৯ ডিসেম্বরের মার্চ ফর ডেসোক্র্যেসি ও গণজমায়েত কর্মসূচিতে সরকারের ভূমিকা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওপর নির্ভর করছে।

তিনি বলেন, ‘ইসি অনুমতি দিলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর বিএনপি তাদের কর্মসূচি করতে পারবে। সরকার কোনো বাধা দেবে না।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ইসি অনুমতি দেয়ার পরও যদি বিএনপি কর্মসূচির নামে কোনো সহিংসতা করে বা করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার তা কঠিন হাতে মোকাবেলা করবে।’

বিশৃঙ্খলা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

মার্চ ফর ডেমোক্রেসি দুই টার্গেট

রাজধানীমুখী জাতীয় পতাকা হাতে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ অভিযাত্রা সফল করতে নানামুখী প্রস্তুতি চলছে ১৮ দলের। একদিকে সারা দেশে তৃণমূলে শক্ত অবস্থান ধরে রাখা, অন্যদিকে অভিযাত্রায় দলমত নির্বিশেষে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এ দুই চ্যালেঞ্জকে জয় করে ২৯শে ডিসেম্বরের অভিযাত্রায় অন্তত ২০ লাখ লোকের সমাগম ঘটাতে
চায় বিরোধী জোট। রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকের চেয়ে নানা শ্রেণী-পেশার সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিরোধী নেতারা। তবে ধারাবাহিক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বিরোধী নেতা খালেদা জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে বিভাগীয় ও জেলা নেতারা। ১৮ দলের নেতারা এমন তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানান, রাজধানীতে দীর্ঘ সময় অবস্থান নয়, সরকারের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিয়ে চাপ সৃষ্টি ও চূড়ান্ত আন্দোলনে বিরোধী নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার দুই লক্ষ্যেই এসেছে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ অভিযাত্রার ঘোষণা। বিএনপি সূত্র জানায়, বিগত তিন সপ্তাহ ধরে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের অর্ধশতাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি অবরোধের পাশাপাশি রাজধানী অভিমুখী কর্মসূচি সফল করার জন্য প্রস্তুতির নির্দেশনা দেন। খালেদা জিয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর অনানুষ্ঠানিকভাবেই জোরালো প্রস্তুতি শুরু করেছেন তৃণমূল নেতারা। সূত্র জানায়, কৌশলগত কারণে ২৯শে ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে অংশ নেবেন প্রতিটি জেলা থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশ। যারা ঢাকা অভিমুখী মার্চে অংশ নেবেন তারা আসবেন গ্রেপ্তার, দীর্ঘ সময়ের জন্য অবস্থানের মানসিক ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে। তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করবেন নিজ নিজ এলাকায়। বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, বর্তমানে ঢাকা ছাড়া প্রায় প্রতিটি জেলায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা রাজনীতির মাঠছাড়া। জনবিক্ষোভের মুখে প্রহসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি দূরে থাক এলাকায় তারা স্বচ্ছন্দে চলাফেরাও করতে পারছেন না। এ অবস্থায় প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করতে শক্ত এ অবস্থান ধরে রাখার বিকল্প নেই। ফলে গণতন্ত্রের জন্য অভিযাত্রায় সর্বশক্তিতে অংশ নিতে গিয়ে মাঠ হাতছাড়া না করতেই এ কৌশল নিয়েছে বিরোধী জোট। এছাড়া অভিযাত্রা থেকে বিরোধী নেতা খালেদা জিয়ার তাৎক্ষণিক নতুন কর্মসূচি সফল করাও জরুরি। বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরাম সূত্রে জানা গেছে, বিজয়ের মাসে কোন হঠকারী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চায় না বিরোধী দল। দু’টি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আগামী ২৯শে ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখী গণতন্ত্রের জন্য অভিযাত্রা কর্মসূচি ঠিক করেছেন খালেদা জিয়া। প্রথমত, রাজধানীতে বিপুল মানুষের শোডাউনের মাধ্যমে সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের শেষ সুযোগ দিতে চান তিনি। চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ভেঙে দিতে চায়  সরকারের আত্মবিশ্বাস। দ্বিতীয়ত, সরকারের দমন-পীড়নে হতোদ্যম বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে চান। সূত্র জানায়, রাজধানীতে দীর্ঘসময়ের জন্য অবস্থান নেয়ার পক্ষে নন বিরোধী নেতা। ভিন্ন কোন শক্তির আগমনের পথ তৈরি করতে চান না তিনি। এমন মনোভাব থেকেই আহ্বানে খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে পরিষ্কার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা এলে জনগণ তা মোকাবিলা করবে। পরে কঠোর কর্মসূচি দেয়া ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকবে না। নেতারা বলেন, গণতন্ত্রের জন্য অভিযাত্রায় বিপুল সংখ্যক জনতার সমাগম হলে সরকারের প্রতি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে আলোচনার জন্য স্বল্প সময়ের একটি আলটিমেটাম দিতে পারেন খালেদা জিয়া। পরিস্থিতি বিবেচনা করে কঠিন কর্মসূচির সিদ্ধান্তও আসতে পারে তাৎক্ষণিক। সূত্র জানায়, ১৮ দলের কর্মী-সমর্থকদের বাইরে অন্তত ৫-৬ লাখ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ড্যাব, এ্যাব, সাংবাদিক সংগঠনসহ নানা পেশাজীবী সংগঠনকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। নেতারা জানান, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট ছাড়াও মহাজোটের বাইরে থাকা একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক সমর্থন পেয়েই গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন খালেদা জিয়া। মার্চ ফর ডেমোক্রেসিকে সফল করতে সারা দেশ থেকে দলমত, শ্রেণী-পেশা, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সক্ষম নাগরিকদেরকে রাজধানী ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা করার আহ্বান জানান। সব ধরনের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মঙ্গলবারের বক্তব্যে খালেদা জিয়া অভিযাত্রায় ব্যবসায়ী, সিভিল সমাজ, ছাত্র-যুবক, মা-বোন, কৃষক-শ্রমিক, কর্মজীবী-পেশাজীবী, আলেম, শেয়ার বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত, বর্তমান সরকারের আমলে নির্যাতিত, পাহাড়ের মানুষসহ সব ধর্মের নাগরিকদের আহ্বান জানান। খালেদা জিয়া চারটি নীতি-কৌশলে আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি, জাতীয় ক্ষেত্রে বিতর্কিত বিষয়গুলো শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পন্থায় মীমাংসার রাজনৈতিক সংকল্পকে জোরদার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা জোরদার এবং সর্বোপরি ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক সংগ্রাম কমিটিগুলোর পাশাপাশি দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনরত সকল পক্ষকে নিয়ে অবিলম্বে জেলা, উপজেলা ও শহরে ‘সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে  ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনী তামাশা প্রতিহতের নির্দেশনা দেন। নেতারা জানান, সরকারের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতেই লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে সকলেই ঢাকা আসার আহ্বান জানান। নেতারা বলেন, জাতীয় পতাকা হাতে থাকলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা কাজ করে, সাহসের জন্ম হয়। ফলে দুই জোটের বাইরে থাকা একাধিক রাজনৈতিক দল এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে। ইতিমধ্যে বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্প ধারা ও কাজী জাফর আহমদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি অভিযাত্রায় অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। হেফাজত ইসলাম-ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় অংশ নিতে পারেন। বিরোধী নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের সমর্থন আদায় করতে চান বিরোধী নেতা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা চাকরির ভয় ও হয়রানির কারণে মুখ বুজে সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন তাদের সাহস দিতে চান। বিএনপি নেতারা জানান, বিরোধী নেতা পতন বা পদত্যাগের চেয়ে এজেন্ডানির্ভর অর্থবহ আলোচনায় সরকারকে বাধ্য করতে জোর দেবেন। তিনি চান সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৪শে জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার ক্ষমতায় থাকুক। তবে ৫ই জানুয়ারির ঘোষিত প্রহসনের নির্বাচনের তফসিল বাতিল করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের বিধান সংযোজন করুক। তিনি এমন কিছু করতে চান না যাতে চলমান আন্দোলনের ওপর আন্তর্জাতিক সমর্থন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্ষতি না হয়। সমঝোতার মনোভাব প্রকাশ করেই ২৪শে ডিসেম্বরের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি হচ্ছে আর্ট অব কমপ্রোমাইজ। সমঝোতা স্থাপন করলে কেউ ছোট হয়ে যায় না। সরকারের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া পরিষ্কার বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আমরা আপনাদের দাবি মেনে নিয়ে সমঝোতা স্থাপন করেছিলাম। এখন আপনারা ক্ষমতায় আছেন। জনগণের দাবি মেনে নিয়ে সমঝোতায় আসুন। এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। প্রহসনের নির্বাচনের তফসিল ও আলোচনা শুরু করুন। আমরাও আলোচনায় বসতে রাজি আছি। নেতারা জানান, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হলে রাজনীতির নতুন এক মেরুকরণে শুরু হবে ২০১৪ সাল। উল্লেখ্য, আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দু’টি চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

পুলিশের নিয়ন্ত্রণে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নেতা-কর্মীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত করে ফেলেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিজ কার্যালয়ে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা তার সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করতে কার্যালয়মুখী হন।

দলীয় নারী সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার ও উপদেষ্টা আব্দুল আউয়ালের পুত্র তাবিব আউয়ালকে আটক করেছে পুলিশ। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গনিকে আটকের  কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্যালয়ের ভেতরে কাউকেই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান,সাংবাদিক শফিক রেহমান, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এড. খন্দকার মাহবুব হোসেন,উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক, সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর ও মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলেও তাদের পুলিশ ফিরিয়ে দেয়।

এর আগে পূর্ব নির্ধারিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ব্যক্তিবর্গ বড়দিন উপলক্ষে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ!

 বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কি অঘোষিতভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছে? দলীয় নেতা-কর্মী এবং পর্যবেক্ষকদের মাঝে এ গুঞ্জন ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বুধবার কাউকে বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় প্রবেশ করতে না দেওয়ায় গুঞ্জন আরো জোরোলো হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর রোডে খালেদা জিয়ার বাসার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একইভাবে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনেও পুলিশি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়।

বুধবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। রাস্তার উভয় পার্শ্বে ব্যারিকেড দিয়ে যান ও জন চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মিডিয়া কর্মী ছাড়া অন্য কাউকে ওই রোড দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না।

বেলা ১টার দিকে চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে আসেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদিন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে বাসার অভ্যন্তরে যেতে দেননি।

এছাড়া সোয়া ১টার দিকে বাসার সামনে তেকে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল নেতা অভিসহ দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার নূরে আলম শীর্ষ নিউজকে বিরোধীদলীয় নেতাকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, অন্য কিছু নয়। বিরোধী দলীয় নেতার নিরাপত্তার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তাহলে বাসায় যাতায়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন, জানতে চাইলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তবে কেউ যেতে চাইলে অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে।   - See more at: http://www.sheershanews.com/2013/12/25/18815#sthash.cApuIbYc.dpuf

২৯ ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ অভিযাত্রা

৫ জানুয়ারি সরকারের একতরফা নীলনকশার নির্বাচনকে প্রতিহত করতে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৮ দল জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কর্মসূচির ডাক দেন।

কর্মসূচি ঘোষণা করে বেগম জিয়া বলেন, এই আন্দোলনকে আরো বিস্তৃত, ব্যাপক ও পরবর্তী ধাপে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমি আগামী ২৯ ডিসেম্বর  রোজ  রোববার সারা দেশ থেকে দলমত, শ্রেণী-পেশা, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সক্ষম নাগরিকদেরকে রাজধানী ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা করার আহবান জানাচ্ছি। এই অভিযাত্রা হবে নির্বাচনী প্রহসনকে ‘না’ বলতে, গণতন্ত্রকে ‘হ্যাঁ’ বলতে। এই অভিযাত্রা হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অর্থবহ নির্বাচনের দাবিতে।

তিনি বলেন, এই অভিযাত্রা হবে শান্তি, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের পক্ষে। এই অভিযাত্রা হবে ঐতিহাসিক। আমরা এই অভিযাত্রার নাম দিয়েছি: ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’, গণতন্ত্রের অভিযাত্রা।

আমার আহবান, বিজয়ের মাসে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে সকলেই ঢাকায় আসুন। ঢাকায় এসে সকলে পল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিলিত হবেন।

তিনি দীপ্ত কন্ঠে বলেন, আমার আহ্বান এই অভিযাত্রায় ব্যবসায়ীরা আসুন, সিভিল সমাজ আসুন, ছাত্র-যুবকেরাও দলে দলে যোগ দাও। মা-বোনেরা আসুন, কৃষক-শ্রমিক ভাই-বোনেরা আসুন, কর্মজীবী-পেশাজীবীরা আসুন, আলেমরা আসুন, সব ধর্মের নাগরিকেরা আসুন, পাহাড়ের মানুষেরাও আসুন। যে যেভাবে পারেন, বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, অন্যান্য যানবাহনে করে ঢাকায় আসুন। রাজধানী অভিমুখী জনস্রোতে শামিল হোন।

একই সঙ্গে যারা রাজধানীতে আছেন, তাদের প্রতিও আমার আহ্বান, আপনারাও সেদিন পথে নামুন। যারা গণতন্ত্র চান, ভোটাধিকার রক্ষা করতে চান, যারা শান্তি চান, যারা গত পাঁচ বছরে নানাভাবে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, শেয়ারবাজারে ফতুর হয়েছেন সকলেই পথে নামুন।

জনতার এ অভিযাত্রায় কোনো বাঁধা না দেয়ার জন্য আমি সরকারকে আহবান জানাচ্ছি। যানবাহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ করবেন না। নির্যাতন, গ্রেফতার, হয়রানির অপচেষ্টা করবেন না। প্রজাতন্ত্রের সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হবার অধিকার দিয়েছে। সেই সংবিধান রক্ষার শপথ আপনারা নিয়েছেন। কাজেই সংবিধান ও শপথ লঙ্ঘণ করবেন না।  

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলছি, দেশবাসীর এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা আপনারা দেবেন।

এই কর্মসূচির সাফল্যের জন্য আমি পরম করুণাময় আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের সাহায্য কামনা করি।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা এলে জনগণ তা মোকাবিলা করবে। পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দেয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহত করতে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা কমিটি গঠনের আহ্বান জানান খালেদা জিয়া বলেন, ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক সংগ্রাম কমিটিগুলোর পাশাপাশি দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনরত সকল পক্ষকে নিয়ে অবিলম্বে জেলা, উপজেলা ও শহরে ‘সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে পাঁচ জানুয়ারি নির্বাচনী তামাশা প্রতিহত করুন। প্রতিটি জেলার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখুন এবং জনগণের জান, মাল ও জীবীকার নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে স্ব স্ব নাগরিক দায়িত্ব পালন করুন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রহসন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলে থাকেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তিনি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সংবিধানের এই বিতর্কিত সংশোধনীর আওতায় তিনি আজ নির্বাচনের নামে যে প্রহসন পরিচালনা করছেন তাতে জনগণের ভোট ছাড়াই ১৫৪ জন এমপি হয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের জনগণের ভোটের কোনো প্রয়োজন হয়নি।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, দেশের মোট ভোটারের শতকরা প্রায় ৫৩ জনের ভোটের অধিকার এই প্রক্রিয়ায় কেড়ে নেয়া হয়েছে। বাকী আসনগুলোতেও যারা প্রার্থী আছেন তাদেরও কোনো উপযুক্ত ও যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সেখানেও ভোটাররা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। কারণ শুধু বিএনপি নয়, দেশের উল্লেখযোগ্য সকল বিরোধী দলই এই নির্বাচনী প্রহসন বর্জন করেছে। শুধু আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটের একাংশ এই একতরফা প্রহসনে শামিল হয়েছে। এই নির্বাচনী তামাশা কোনো ইলেকশন নয়, এটা নির্লজ্জ সিলেকশন। জনগণের  ভোটাধিকার হরণের এমন জঘণ্য প্রহসন আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক ঘৃণ্য কলঙ্কের অধ্যায় হয়ে থাকবে।

জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নেয়া প্রস্তাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ যে-প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, তা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। পাকিস্তানের ভেতরই দায়িত্বশীল মহল থেকে এর প্রতিবাদ করা হচ্ছে। আজ আমি আবারো বলছি, ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছি। পাকিস্তান এখন সহস্র মাইল দূরবর্তী এক পৃথক রাষ্ট্র। ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের সরকারই ত্রিদেশীয় চুক্তি সই করেছিল।  সেই চুক্তিতে পাকিস্তানী যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার না করার এবং অতীত তিক্ততা ভুলে সামনে অগ্রসর হবার অঙ্গীকার তারাই করেছিলো। এরপর কোনো ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা কূটনৈতিকভাবেই নিরসন করা উচিত। কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে সরকার এই প্রসঙ্গকে পুঁজি করে দেশের ভেতরে নোংরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। এই রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করুন।

বৃটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টকে উদ্ধৃত করে খালেদা জিয়া বলেন, দেশে এখন নির্বাচনের নামে সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে ন্যক্কারজনক যে তামাশা চলছে তাতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৃটিশ সাময়িকী ‘ইকোনমিস্ট’ তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘শাসকেরা জিতবে, হারবে বাংলাদেশ’। শুধু শাসক দল আওয়ামী লীগ জিতলে কথা ছিলনা। যে বিজয়ের অর্থই হচ্ছে দেশের পরাজয়, বাংলাদেশের হেরে যাওয়া, সেটি আমরা মেনে নিতে পারি না। এদেশের জনগণ জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ করে যে-দেশ সৃষ্টি করেছে, তারা সেই দেশের পরাজয় মেনে নেবে না। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে এদেশের মানুষ যে গণতন্ত্র এনেছে, সেই গণতন্ত্রকেও তারা কেড়ে নিতে, পরাজিত হতে দিবে না।

 তিনি বলেন, এদেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার আদায় করবেই। বাংলাদেশের জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা ও সুষ্ঠু অর্থনৈতিক তৎপরতার উপযোগী পরিবেশ চান। দীর্ঘ মেয়াদে যাতে বাংলাদেশ অশান্ত, অনিরাপদ ও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ছেয়ে না যায়, তার জন্যই গ্রামে গঞ্জে, শহরে বন্দরে, পাড়ায় মহল্লায় মানুষ আজ লড়াইয়ে নেমেছে। এ লড়াই গণতন্ত্র রক্ষার, অধিকার প্রতিষ্ঠার, জীবন রক্ষার, দেশ বাঁচাবার, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবার। জনগণের বিজয় অর্জন পর্যন্ত এই লড়াই চলতে থাকবে এবং আমরা জনগণের সঙ্গেই থাকবো ইনশাআল্লাহ্‌।

সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যের সূচনায় খালেদা জিয়া বলেন, ভয়ংকর রাষ্ট্রীয়-সন্ত্রাস কবলিত দেশ। প্রতিদিন রক্ত ঝরছে। বিনাবিচারে নাগরিকদের জীবন কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ঘরে ঘরে কান্নার রোল। শহরের সীমানা ছাড়িয়ে নিভৃত পল্লীতেও ছড়িয়ে পড়েছে আতংক। সকলের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া। নির্বিকার শুধু সরকার। তাদের লক্ষ্য একটাই, যে-কোনো মূল্যে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখা। তাই তারা ভিনদেশী হানাদারদের মতো ‘পোড়ামাটি নীতি’ অবলম্বন করে চলেছে।

তিনি বলেন, শুধু মুখে বলা নয়, আমরা সমঝোতার জন্য সব রকমের চেষ্টা করছি। সকল দলের অংশগ্রহনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। সে প্রস্তাব আমাদের পক্ষ থেকে পার্লামেন্টেও পেশ করা হয়েছে। আমরা বলেছি, আসুন, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে একটা ঐক্যমতে পৌঁছাই।  সরকার তাতেও রাজি হয়নি। তারা অনড় অবস্থান নিলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, আমরা একটা সমঝোতার উদ্যোগ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকেও অনুরোধ জানিয়েছিলাম। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো এসে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের বৈঠকের উদ্যোগ নেন। আমরা তাতেও সাড়া দিয়েছি। যদিও মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক আমাদের নেতা-কর্মীদের মুক্তি দেয়া হয়নি। বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এমনকি, একতরফা নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়নি। অর্থাৎ, আলোচনার একট সুষ্ঠু পরিবেশ সরকারের তরফ থেকে সৃষ্টি করা হয়নি। তা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সুরাহা করার ব্যাপারে আন্তরিকতার সর্বোচ্চ প্রমাণ আমরা দিয়েছি।

ভাবলেশহীন সিইসি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পর্যবেক্ষক দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেও ভাবলেশহীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

তিনি গা ছাড়াভাবেই বললেন, তাদের (বিদেশি পর্যবেক্ষক) বিবেচনায় তারা আসবেন না, আমাদের লোকাল প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, আপনারা সাংবাদিকরা দেশবাসীকে জানাবেন।

সোমবার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিইসি বলেন, আমরা তাদের আসতে দাওয়াত দিয়েছি। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা আছে- সেটা বিচার বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ না করতে আওয়ামী লীগের অনুরোধ সম্পর্কে তিনি বলেন,  হলফনামা প্রকাশে আইন কি বলে- সেটা আমরা ভেবে দেখব। পরিবর্তন করতে হবে কি না এটা এখনই বলা যাবে না।

এক আগে একজন কমিশনার জানান, হলফনামায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সম্পদসহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পর গণমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়। পরে আওয়ামী লীগের ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রবিবার কমিশনে আসে। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলে, কেন আপনারা এ তথ্য প্রকাশ করলেন। প্রকাশের পর আমরা বিপদে পড়েছি।

তিনি বলেন, এরপর থেকে কমিশন হলফনামা প্রকাশের আইন-কানুন নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করে।

প্রসঙ্গত, ২০ ডিসেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রবিবার কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসবে না বলে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।

এবার পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত আমেরিকার

ঢাকা: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথের পর এবার আমেরিকাও জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না।

আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে সোমবার এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদের অর্ধেকেরও বেশি আসন প্রতিদ্বন্দ্বীহীন হওয়ায় আমেরিকা নিরাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, এমন একটি নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি। সংলাপ অব্যাহত রাখার জন্য এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য যথোপযোগী সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে আমেরিকা প্রধান দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এমন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রতি নিজ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার একটি সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে বলে আমেরিকা বিশ্বাস করে।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদের অর্ধেকেরও বেশি আসন প্রতিদ্বন্দ্বীহীন হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে ওই বিবৃতিতে আমেরিকা বলছে, পরবর্তী সময়ে আরো অনুকূল পরিবেশে পর্যবেক্ষণ উদ্যোগ নেয়ার জন্য দেশটি প্রস্তুত রয়েছে।  

বিবৃতিতে বলা হয়, একটি অসহিংস ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে নিজ জাতীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষের প্রাপ্য। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব-এবং যারা নেতৃত্ব প্রদানের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন-তাদের আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং সহিংসতা, উস্কানিমূলক বক্তব্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সব রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশী নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের জন্য আমেরিকা অনুপ্রাণিত করে। আমেরিকা বিশ্বাস করে যে, সব দলের ও বাংলাদেশী নাগরিকদের অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে নিজ মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। এই মতামত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করা সরকারের দায়িত্ব; একইভাবে, এই সুযোগ শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা বিরোধী দলের দায়িত্ব

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না কমনওয়েলথ

একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর এবার পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না কমনওয়েলথ। রবিবার কমনওয়েলথ মহাসচিব কমলেশ শর্মা এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশনকে একথা জানান। কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি  নিশ্চিত করেছে।
 
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও পরিবেশ না থাকায় তারা ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন না।
 
এর আগে গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

নির্বাচনের নামে গদি ভাগাভাগি হচ্ছে: রফিক উল হক

ঢাকা: ৫ জানুয়ারি দশম নির্বাচনের যে আয়োজন চলছে তাকে গদি ভাগাভাগি বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক।

রোববার বেসরকারি টেলিভিশন সময়’র সঙ্গে আলাপকালে রফিক উল হক এই মন্তব্য করেন।

প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, “আমাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। কিন্তু আমরা বাঙালিরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই না।”

তিনি বলেন, “মানুষ যে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না এটিই আবার প্রমাণিত হলো এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।”

গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে দুই দলের মধ্যে ঐক্যমতের ভিত্তিতেই নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনই কেবল এর সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন ব্যারিস্টার রফিক।

সময় সংবাদে বলা হয়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১৩ দিন। কিন্তু নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না দেশের কোথাও। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গেছে অনেক আগেই। তাই এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ দেশে ও দেশের বাইরে।

দেশের ইতিহাসে প্রধান বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন হয়েছে এর আগেও। ১৯৯৬ সালের পনের ফেব্রুয়ারির সে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ৪১টি দল, আর ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৭ ভাগ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৯ জন নির্বাচিত হয়েছিল তখন। আর এবারে ১৫৪ টিরও বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতছে আওয়ামী লীগ।

সংবিধান পরিবর্তন করে নতুন নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনই এ সংকট উত্তরণের উপায় হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন সরকারের স্থায়ীত্ব হবে কয়েক মাস: সিডনি মর্নিং হেরাল্ড

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হলে তা কয়েক মাস স্থায়ী হবে বলে মন্তব্য করেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকা। শনিবার ‘বাংলাদেশ’স ফিউচার হ্যাংস ইন দ্য ব্যালেন্স’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নির্বাচন হয়তো হবে। আর এতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার কয়েক মাস স্থায়ী হবে। এরকমই একটি নির্বাচন ১৯৯৬ সালে হয়েছিলো। ঐ সরকার ১১ দিন পরই পদত্যাগ করেছিলো।

নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা মৃত উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনা একেবারেই মৃত। নির্বাচনের ফল কি হবে তা সবার জানা হয়ে গেছে। এই নির্বাচন নিয়ে এটুকুই বলা যায়, দেশ একটি অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফল বৈধতা পাবেনা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধীদলের বয়কট করা এ নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে সরকারপক্ষ। এ মুহূর্তে জয়ের পুরো সম্ভাবনা সরকারের পক্ষে। এতে বলা হয়, নির্বাচনের মাধ্যমে অজনপ্রিয় সরকার ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু এ জয় হবে কোন ধরনের বৈধতা ছাড়া।

সংলাপের জন্য জাতিসংঘের নেয়া উদ্যেগের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে মধ্যস্থতার উদ্যেগ নিয়েছিলো জাতিসংঘ। আলোচনায় বসা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু তাতেও কোন সমঝোতা হয়নি। রাজনীতিবিদদের অনড় অবস্থানের কারণে দেশটির গণতন্ত্র এখন থমকে আছে।

দেশের চলমান সহিংস পরিস্থিতিতেও সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সবসময়ের মতোই সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার। যারাই হাসপাতালে যাচ্ছে তাদের কেউ হামলায় আহত, অগ্নিদগ্ধ অথবা গাড়িতে পুড়ার শিকার হয়ে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছেনা। সরকার বিরোধীদের মতো সাধারণের এ ক্ষয়-ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। বরং চাইছে যেভাবে হোক ক্ষমতা ধরে রাখতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জয় দিয়ে কোন নির্বাচনের সফলতা বিবেচনা করা য়ায়না। এর জন্য নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণমূলক হওয়া দরকার। যে মানেই যাচাই করা হোক, বাংলাদেশের সামনের এ নির্বাচনকে নির্বাচন বলা যাবে না।

সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন : বিএনপি

নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, যে নির্বাচনে জনগণের অংশ গ্রহণ নেই সে নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা ঠিক নয় ।

নির্বাচনের তফসিল স্থগিত ও নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ৫ম দফা অবরোধের প্রথম দিন শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, সরকারের আজ্ঞাবাহ নির্বাচন কমিশন প্রহসনের নির্বাচনে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

১০ম নির্বাচনকে সরকারের নাটক মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে নির্বাচনী প্রহসনে অর্ধেকের বেশি আসনে পছন্দনীয় প্রার্থীদের বিজয়ী দেখানো হয়েছে এবং অবশিষ্ট আসনগুলোতেও বাস্তবে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তো দূরের কথা প্রচারণাও নেই- সে নির্বাচনে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়োগ করার খবরে আমরা বিস্মিত হয়েছি। অযোগ্য নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার হয়ে নিজেরা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা জনগণের বিভিন্ন দুঃসময়ে যারা তাদের পাশে দাঁড়ায়-সেই সশস্ত্র বাহিনীকেও জনগণের বিপক্ষে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।  
 
নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়, তারা কখনোই সমঝোতার পথে আসবে না। সমঝোতা নিয়ে তাদের বক্তব্যে ‘যদি’ এবং ‘প্রয়োজনে’র আধিক্যই প্রমাণ করে তারা সমঝোতা চায় না। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ সরকারই নস্যাৎ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণ ভোট দেবে না জেনে সরকারী দল ও জোট নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে ইতিমধ্যেই ভোট ছাড়াই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে গেছে! অন্যান্য আসনেও বিজয়ী নির্ধারণ করাই আছে। অপেক্ষা শুধু বশংবদ নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ফলাফল ঘোষণার। নির্বাচন নিয়ে এমন হাস্যকর রসিকতা বিশ্বের কোথাও কেউ দেখেনি। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’র নিবন্ধে এটাকে ফল নির্ধারণপূর্বক নির্বাচন বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে- “এটা সুস্পষ্ট একটা প্রহসন। এ নির্বাচনী প্রহসনে আওয়ামী লীগ জিতবে-হারবে বাংলাদেশ।”
 
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দুর্নীতি, অপশাসন আর সর্বগ্রাসী দলীয় করণের ফলে জনগণের দ্বারা প্রত্যখ্যাত বর্তমান সরকার নিশ্চিত পরাজয় থেকে রক্ষা পাবার জন্য দলীয় সরকার বহাল রেখে, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচনী প্রহসন করছে। এটা করার জন্যই আদালতের রায়ের দোহাই দিয়ে জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে তারা সংবিধান সংশোধন করেছে। আর তাদের স্বার্থ রক্ষায় সংশোধিত সে সংবিধানের দোহাই দিয়ে সরকারে অনুগত নির্বাচন কমিশন নির্বচনী নাটক চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে নির্বাচনী নাটক করতে গিয়ে দেশে-বিদেশে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। নির্বাচনে কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসছেনা। দেশীয় পর্যবেক্ষকরাও অনীহা প্রকাশ করেছে। সবাই বলছেন, এ নির্বাচন পাতানো, অর্থহীন, অগ্রহণযোগ্য ও অপর্যবেক্ষণযোগ্য। এ নির্বাচনে জনসমর্থন নেই, জনগণের অংশগ্রহণও নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারকে কৌশলে তাদের ভোটাধিকারে থেকে বঞ্চিত করে সরকার নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে যে, জনগণের মুখোমুখী হতে সরকার ভয় পায়।  
 
সরকারের মন্ত্রী এমপিরা আলাদিনের চেরাগ পেয়েছে মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতা বিবৃতিতে বহুবার বলার পরেও সরকারের কোন মন্ত্রী তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব গত ৫ বছরে প্রকাশ করেন নি। তারা না করলেও গত ক’দিনে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রীদের সম্পদের ঘোষিত বিবরণী প্রকাশিত হচ্ছে। যে সব সম্পদের কথা তারা প্রকাশ করতে চেয়েছেন বিবরণী শুধু তার। এর বাইরে আর কি কি আছে তা যথাসময়ে দেশবাসী নিশ্চয়ই জানবেন। তবুও যা প্রকাশ পেয়েছে তাও আঁতকে উঠার মতো। মনে হয় এ সরকারের সব নেতা ও মন্ত্রীকেই পদ ও মন্ত্রণালয় বন্টনের সময় একটা করে আলাদিনের চেরাগ দেয়া হয়েছিল- যা দিয়ে তারা এত সম্পদ করতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, এতদিন আমরা যখন এই সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি দলের নেতাদের দুর্নীতি অনাচারের কথা বলেছি তখন অনেকেই তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেছেন। এখন প্রমাণ হলো যে, আমাদের অভিযোগ মিথ্যা ছিল না। তারা নিজেরাই হলফ করে যা বলেছেন তা তাদের দুর্নীতি-অনাচার প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।

দুদকের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, দুদুকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, কারো বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে তখন তারা দেখবেন। যখন কেউ নিজেই হলফ করে এমন তথ্য দেয় যা স্পটতই সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক, তখনও কি দুদকের অন্য কারো কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা জরুরি? সর্বগ্রাসী দলীয়করণের আর কত প্রমাণ জনগণ দেখবে?
 
সংলাপ ও সমঝোতার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আলোচনা চলছে এবং নির্বাচনের পরেও আলোচনা চলবে। অথচ সবাই জানেন যে, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যে আলোচনা শুরু হয়েছিল তা ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের ধরণ কি হবে তা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের জন্য। নির্বাচনের পরেও আলোচনার কথা বলে প্রকৃতপক্ষে  তিনি সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দিলেন যে, নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে সরকার কোন সমঝোতায় আসবে না। যে তিন দফা আলোচনা হয়েছে তা ছিল লোক দেখানো। প্রমাণ হলো, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সরকারই নস্যাৎ করে দিল।

নজরুল ইসলাম খান বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আন্দোলনের কর্মসূচি বন্ধ করা হলে নির্বাচনের পরে যদি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসা যায় তা হলে প্রয়োজনে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেয়া যেতে পারে। তার বক্তব্যে অনেকগুলো পূর্ব শর্ত, যদি এবং প্রয়োজনের উল্লেখ স্পষ্টই বলে দেয় যে, এটা চলমান গণআন্দোলনে রত জনগণকে বিভ্রান্ত এবং ভোটারবিহীন ভোটরঙ্গে মনোনীত সংসদ ও সরকারকে স্থায়ী করার একটি অপকৌশল।  

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- আন্দোলন চলছে এবং আন্দোলনের অংশ হিসাবেই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় আয়োজিত সংলাপ চলছিলো -সবই ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সকলের অংশগ্রহণে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের ধরণ নিয়ে। একাদশ কিংবা পরবর্তী কোনো নির্বাচন নিয়ে আলোচনার অবকাশ কিংবা আগ্রহ আমাদের কখনও ছিল না-এখনও নেই। আমরা সরকারকে বলবো বাস্তবতা অনুধাবন করুন। জনগণের বিপক্ষে যাবেন না এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবেন না।

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইইউ

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে কোন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউ হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ক্যাথরিন অ্যাস্টনের মুখপাত্র গতকাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, হাই রিপ্রেজেনটেটিভ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে, সমপ্রতি জাতিসংঘের উদ্যোগসহ বেশ কয়েক দফা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো সেখানে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, হাই রিপ্রেজেনটেটিভ সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতিতে বলা হয়েছে, হাই রিপ্রেজেনটেটিভ আপাতত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সব ধরনের প্রস্তুতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি হলে ইইউ পর্যবেক্ষণ পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য গত নির্বাচনে ২০০ পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত জানানোর পর কমনওয়েলথ ও সার্কের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে এ পর্যন্ত ভারতের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

সমঝোতা হলে দশম সংসদ ভেঙে ফের নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “খালেদা জিয়া নির্বাচনের ট্রেন মিস করেছেন। তিনি এই নির্বাচনে আসতে পারবেন না। তবে বিএনপি যদি হত্যা বন্ধ করে সমঝোতায় আসে তবে দশম সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দেয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আলোচনা করছি। আলোচনা চলবে। নির্বাচন হওয়ার পর আলোচনা চলতে থাকবে। এখন উনি(খালেদা জিয়া) যদি হরতাল বন্ধ করেন, অবরোধ বন্ধ করেন, মানুষ পুড়িয়ে মারা বন্ধ করেন, মানুষের ওপর অত্যাচার বন্ধ করেন তাহলে নির্বাচনের পর আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা যদি সমঝোতায় আসতে পারি তবে প্রয়োজনে আমরা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে পুনরায় নির্বাচন দেব। সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন হবে।”

বিরোধী দলের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের বিরদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সরকার প্রধান বলেন, “খুঁজে খুঁজে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর পোড়াচ্ছেন। মানুষের ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, সহ্যেরও একটা সীমা আছে। এসব কর্মকাণ্ড আর বরদাশত করা হবে না। মানুষ হত্যা বন্ধ না করলে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য যত কঠোর হওয়া দরকার তত কঠোর হবো।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বিরোধী দল অবরোধ দিয়ে তো কিছুই করতে পারল না। উনার অবরোধ শুধু দিন মজুর আর খেটে খাওয়া মানুষের বিরুদ্ধে। আর ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যেন ক্লাস পরীক্ষা দিতে না পারে তার জন্য।”

জামায়াত নির্বাচনে আসতে পারবে না বলেই বিএনপি নির্বাচনে আসছে না অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আমরা চেয়েছি সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতান্ত্রিক নির্বাচন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেছি। এ সরকারের আমলে সব নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তারপরেও এ নির্বাচনে আসা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না। অথচ বিএনপি নির্বাচনে আসল না।”

অবরোধকালীন সময়ের ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে আর জামায়াত মাঠে নেমে মানুষ হত্যা করে, রগ কাটে। তারা হাজার হাজার গাছ কেটে রাস্তা বন্ধ করছে।”

এসময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবাদীদের সমালোচনা করে বলেন, “এত হাজার হাজার গাছ কাটা হল কোনো একজন পরিবেশবাদী এ নিয়ে কিছু বলল না। একটা প্রতিবাদ তাদের কাছ থেকে পাইনি। মানুষ হত্যার প্রতিবাদও পাইনি। কোন সংগঠন একটা বিবৃতি দিল না। মানুষ পুড়িয়ে মারল। প্রতিদিনই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে- কিন্তু কেউ কোনো বিবৃতি দিচ্ছে না।”
 
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাননি, তিনি তাদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। কিন্ত যারা একাত্তরে স্বজন হারিয়েছেন বিচার চাওয়াটা তাদের মৌলিক অধিকার। খালেদা জিয়ার কথা আলাদা। উনিতো উনার স্বামীর হত্যার বিচারও করেননি।”

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “ওনি কার বিরুদ্ধে অবরোধ দিলেন। উনি অবরোধ দিয়ে কি করতে পেরেছেন। সরকারি কার্যক্রম চলছে, কৃষি কাজ চলছে। উনি পেরেছেন বাচ্ছাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করতে? পেরেছেন খেটে খাওয়া মানুষের রুটি রোজগার বন্ধ করতে?  তিনি জনজীবন অচল করার কথা বলেছেন, আমরা তা সচল রেখেছি।”

পাকিস্তানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ায় আজ পাকিস্তানের দরদ উতলে উঠেছে। ইমরান খান নিয়াজীর দরদ উতলে উঠেছে। বাংলাদেশের একজন নাগরিকের বিচার হচ্ছে এটা নিয়ে তাদের এত মাথা ব্যথা কেন? অবশ্য এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি-জামায়াত পাকিস্তানের অন্তরাত্মা।”

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের আশা ছিল বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেবে। এজন্য আমরা জোটগতভাবে ছাড় দিয়ে প্রার্থী ঠিক করেছি। যখন বিরোধী দল নির্বাচনে আসেনি, তখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াটা স্বাভাবিক। তারপরেও নির্বাচনে ১২টি দল ও ৫৪০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিচ্ছে।”
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বেগম মতিয়া চৌধুরী, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, কাজী জাফর উল্লাহ, মোহাম্মদ নাসিম, নুহ উল আলম লেলিন, ড.এইচটি ইমাম, ড.মশিউর রহমান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকোটে জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছারসহ দলের ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রায় সব সদস্যই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন হলে বৈধতা হারাতে পারে সরকার : ইকনোমিস্ট

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা দেশে ও বিদেশে বৈধতা হারাতে পারে  বলে মন্তব্য করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য ইকোনোমিস্ট। বৃহস্পতিবার ‘দ্য ক্যাম্পেইন ট্রেইল: দ্য রুলিং পার্টি উইল উইন বাংলাদেশ’স ইলেকশন। দ্য কান্ট্রি উইল লস’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে আওয়ামীলীগ জিতবে। ৫ জানুয়ারি যাই ঘটুক, অনেক এমপিরাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শপথ নিবে। কিন্তু কার্যত এ সরকার দেশে ও বিদেশে বৈধতা হারাতে পারে।

একজন ইউরোপীয়ান কূটনৈতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এক ধরনের অভ্যূত্থানের মতোই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে বলা হয়, ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বিএনপি বয়কট করেছে। তাই শেখ হাসিনার দল আওয়ামীলীগ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে বৈধতার ব্যাপারটি নিয়ে।

চলমান সহিংসতার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ অধিক লোক প্রাণ হারিয়েছে। সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকর করার পর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনগণের কাছে অপ্রিয় শেখ হাসিনা সরকার দেশের বৃহৎ অংশের নিয়ন্ত্রন হারিয়েছে। তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাজপথেই রাজনীতি পরিচালনা করছে। দলটি একের পর এক অবরোধ দিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। বিএনপির শরীক দল জামায়াত নিজেদের অস্থিত্ব রক্ষার জন্য সংগ্রাম করছে।

প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি গুলি করছে এখন। ১৬ ডিসেম্বর জামায়াত অধ্যূষিত ভারতীয় সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৫ জামায়াত সমর্থককে হত্যা করেছে। উত্তরে জামাতের যুব শাখা (ছাত্রশিবির) হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি, দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে। লীগের ক্যাডাররা এলাকা ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় পালিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লোকজন বলতে শুরু করেছে যে প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের পুরো নেতৃত্বকে ফাঁসিতে ঝুলাতে চান। খুব কম লোকই মনে করে বিচারকরা স্বাধীন। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী শেখ হাসিনাকে ফাঁসির রায় কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সমঝোতা তার স্টাইল নয়।

সরকার নিরপেক্ষ নয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এ সরকার জয় লাভ করে। ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন বাতিল করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজেকে নিরপেক্ষ সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

এ অবস্থায় নির্বাচন হলে তা লজ্জাজনক হবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো এটা অবশ্যই একটা লজ্জাজনক নির্বাচন হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪ টি তে কোনো প্রতিদ্বন্দীতা নাই। বিএনপি এবং জোটের ১৭ ছোট দল নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচন বর্জনের জন্য তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্র্টির সাবেক সেনা শাসক এরশাদকে আটক করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে সরকার। তারপরের বৃহৎ দল জামায়াতকে সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে।

বাংলাদেশ জ্বলছে দায় ভারতেরও

বাংলাদেশ জ্বলছে। এর দায় ভারতেরও। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে একথা বলেছে। ‘বাংলাদেশ অন বয়েল, ইন্ডিয়া পার্ট অব কোলড্রন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি লিখেছেন জয়ন্ত জ্যাকব। এ শিরোনামের সরাসরি অর্থ- বাংলাদেশ জ্বলছে। যে কড়াইয়ে জ্বলছে তার একাংশ ভারত। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি অশান্ত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ অশান্ত পরিস্থিতি নির্বাচনের চেয়ে বেশি আদর্শগত। এ ঘটনার এক অংশ ভারত। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী ৫ই জানুয়ারি। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বিবেচনা করা হয় একটি উদার রাজনৈতিক দল হিসেবে। বিএনপিকে দেখা হয় ইসলামপন্থি হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রফেসর মুনতাসীর মামুন বলেন, এখন যে ঘটনা ঘটছে তা হলো আদর্শগত লড়াই। বাংলাদেশের রীতিতে এটাই বিদ্যমান। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন বিএনপি’র রাজনৈতিক ক্ষোভ অনেকাংশে জামায়াতে ইসলামীর সূত্রে। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে ভারত মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপির। ভারতের জন্য হাসিনা সরকার বেশি স্বস্তিকর। যদিও নয়া দিল্লি বলেছে, তারা বাংলাদেশে যে সরকার আসবে তার সঙ্গেই কাজ করবে। তবে রীতি অনুযায়ী শেখ হাসিনার দলকে বন্ধু হিসেবে দেখে ভারত। বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট শমসের মুবিন চৌধুরী বলেছেন, তার দল ভারতের সঙ্গে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে যেটুকু সম্পর্ক উন্নয়ন করেছে তার ভিত্তিতেই তারা কাজ করবেন। ওদিকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নয়া দিল্লি। জবাবে বিএনপি বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ না করলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। বর্তমানের পরিস্থিতি ১৯৯৬ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া। ওই সময় ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচন বর্জন করে তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার সৃষ্টি করতে ও পুনঃনির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দলকে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগে পদত্যাগ করতে হয়। ১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনার দল বিরোধী দলে থেকে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আন্দোলন করেছে এবার ২০১১ সালে সেই ব্যবস্থাকে উল্টে দিয়েছে।

কাদের মোল্লার ফাঁসি : পাকিস্তানের প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানালো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার মিয়া আফরাসিয়াব মেহেদী হাশমি কুরাইশিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে জরুরি তলব করে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান হাইকমিশনারকে প্রতিবাদলিপি প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার সন্ধায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে কার শাস্তি হলো, কার হলো না তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে অন্যকোনো দেশ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এ সময় তিনি সরকার কারও ভয়ে ভীত নয় বলেও মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে আরো অনেক দেশ বা সংস্থাই বিবৃতি দিয়েছে। তাদের বিষয়ে  সরকারের অবস্থান কি?-জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সবার ক্ষেত্রেই সরকারের অবস্থান এক ও  অভিন্ন। যাকে যেভাবে সম্ভব প্রতিবাদ জানানো হবে।

‘যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে পাকিস্তানের  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া বিবৃতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আনা নিন্দা প্রস্তাব’ অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিকালে হাইকমিশনার হাশমি কুরাইশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান এবং সেখানে আধ ঘন্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন।

তবে বৈঠক শেষে পাক হাইকমিশনার সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনা কথা না বলেই বেরিয়ে যান।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে বাংলাদেশ

জাতিসংঘ, দাতাদেশ ও সংস্থাগুলোকে অবজ্ঞা এবং গোঁয়ার্তুমি করে পাতানো নির্বাচনের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন আর  মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দুই দফায় টেলিফোন এবং চিঠি, অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর একাধিকবার ঢাকা সফর করে সংকট সমাধানের চেষ্টা, বান কি মুনের দুই প্রস্তাব কোনো কিছুই গ্রাহ্য করেননি সর্বদলীয় (!) সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশ বিদেশের সব প্রস্তাব-অনুরোধ, মধ্যস্থতার চেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৫ জানুয়ারি পাতানো নির্বাচন করার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আন্তর্কাতিক সম্প্রদায়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ট্রাষ্টি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন একাধিকবার বাংলাদেশে ফোন করেছেন। তিনি বিশ্বের অন্য কোন দেশে এতবার ফোন করেছেন এমন উদাহরণ খুবই কম। জন কেরির মতো লোক, যিনি হয়তো বাংলাদেশ কোন ভূখন্ডে অবস্থিত তা স্পষ্ট করে জানেন না, তিনিও ফোন করেছেন। তারপরও বাংলাদেশে কেন কোন ব্যত্যয় নেই। এটা তাদের কাছে বিস্ময়কর। সমস্যারতো সৃষ্টি হবেই।আর্ন্তাতিক দুনিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রে এখন বাংলাদেশ। প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশগুলো। তারা বাংলাদেশের সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখতে চান। কিন্তু দিল্লীর ইন্দনে সরকার তাদের কোনো প্রস্তাব গ্রাহ্য করছে না। পাতানো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। পুলিশের গুলিতে রক্ত ঝড়ছে। বিরোধীদলীয় নেতাদের ওপর জুলুম নির্যাতন হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশকে ‘কারাগার’ হিসেবে অভিহিত করেছে। কেউ কেউ বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বলেও রিপোর্ট করা হয়েছে। মিডিয়াগুলোতে বলা হয় সরকারের একগুঁয়েমির কারণে জাতিসংঘ মিশনে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে সৈন্য নেয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মার্কিন বাজারে গার্মেন্টেস এর যে কোটা প্রথা বাতিলের সময়সীমা ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আবার দীর্ঘায়িত হতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত তারানকো ঢাকা সফরে এসে দুই দলকে সংলাপে বসালেও সরকারের অনমনীয়তার কারণে সংকটের সুরাহা হয়নি। বানকি মুন টেলিফোন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেটাও মানা হয়নি; বরং জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে আওয়ামী লীগ থেকে প্রচার করা হয় জাতিসংঘের মহাসচিব আওয়ামী লীগের সংবিধান প্রেমের পক্ষেই কথা বলেছেন। বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অনেক আগেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে ড. ইউনূস ইস্যুতে শীতল সম্পর্ক বিরাজমান। এখন গণতন্ত্র এবং দেশের কোটি কোটি ভোটারের ভোটের অধিকার হনন করে পাতানো নির্বাচন ইস্যুতে দেশকে চরম সংঘাতের মুখে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের সরকারের গোঁয়ার্তুমি নিয়ে আলোচনাই শুধু হচ্ছে না; বাংলাদেশের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছে। গতকালও বাংলাদেশে বিজয় দিবসে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। সরকারের প্রতি ক্ষোবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কূটনৈতিক রীতি নীতি উপেক্ষা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিতের যোগদান থেকে বিরত থেকেছে। এমনকি বঙ্গভবনে অনুষ্ঠানও বর্জন করেছে। তবে সরকারের অনুরোধে ২৭ দেশ নিয়ে গঠিত এই জোটের মাত্র একজন কূটনীতিক বঙ্গভবনে উপস্থিত হন। পদ্মা সেতু দুর্নীতির ইস্যুতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্টই শুধু নয়; প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থাগুলো বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ। কিন্তু সরকারের গোঁয়াতুর্মিতে পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়তে পারে দেশ।   

সবদিক দিয়ে সরকারের উপর চাপ আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় এক সভায় যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিষয়ক কংগ্রেস কমিটির সদস্য গ্রেস মেং জানিয়েছেন, বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ না হলে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে ফের শুনানি করে একটি সিদ্ধান্তে আসবেন তারা।
নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ কংগ্রেস সদস্য বলেন, এ পরিস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য কোনোভাবেই সহায়ক নয়। মেং বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান এডওয়ার্ড আর রয়েস ও কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের চেয়ারম্যান জোসেফ ক্রাউলিসহ ছয় কংগ্রেস সদস্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে চিঠি দিয়ে সমাঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশে এখন যে ধরনের কর্মকা- চলছে, তাতে আমরা সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সন্দিহান।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বান কি মুনের মুখপাত্র মার্টিন নেসারকি সংবাদ ব্রিফিংয়ের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, আবদুল কাদের মোল্ল¬ার ফাঁসি কার্যকরে মহাসচিব দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বান কি মুন আগেও এই পদক্ষেপকে নিরুৎসাহিত করেছেন। যে কোনো পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মৃত্যুদ-ের বিরোধীতা উল্লে¬খ করে মুখপাত্র বলেন, মহাসচিব নির্বাচনপূর্ব স্পর্শকাতর সময়ে ফাঁসি কার্যকরে নিরুৎসাহিত করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার পর বাংলাদেশের সবপক্ষকে শান্ত থাকার ও সহিংসতা পরিহারেরও আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে নিজেদের সমন্বয় সভার ‘কারণ’ দেখিয়ে গতকাল বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ না দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইইউ’র রাষ্ট্রদূতেরা। পরে সরকারের দেনদরবারের ফলে বিকেল চারটায় বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রসঙ্গত; এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দ-িত কাদের মোল্ল¬ার ফাঁসি স্থগিত করার কথা জানিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বৃটিশ কমনওয়েলথ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদা হুসেইন ওয়ার্সীও ঢাকা এসে কাদের মোল্লার মৃত্যুদ- না দিতে এবং সবদলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইইউ দূতদের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন করার সিদ্ধান্ত ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন থেকে আইন সভাতেও বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনা হচ্ছে। এর ফলে কি হবে তা হুট করে বলে ফেলা মুশকিল। বাংলাদেশ নিয়ে এখন দেশিয় উদ্বেগ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানার গত ৬ ডিসেম্বরের সংখ্যার একটি প্রতিবেদনের শিরোনামেই বলা হয়েছে, ‘সেনাবাহিনীর জন্য দুঃসংবাদ : জানুয়ারিতে শান্তি মিশনে সৈন্য প্রেরণ স্থগিত, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন চায় না জাতিসংঘ’। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র মাসখানেক বাকি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে চাইছেন। এজন্য তিনি সবধরনের চেষ্টাও করছেন। বিএনপিকে ক্ষমতায় যেতে দিতে রাজি নন তিনি। ইতোমধ্যে তাকে ভারতের তরফ থেকে যথাসময়ে নির্বাচন করার জন্য বলা হয়েছে। কোনো কারণে সমস্যা হলে তাকে রেসকিউ করে নিয়ে যাওয়া হবে সেই রকমও আভাস দেয়া হয়েছে। ইন্ডিয়া এ ব্যাপারে সবধরনের প্রস্তুতি রেখেছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং মূলত শেখ হাসিনার সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করার জন্য এবং ট্রানজিটের চূড়ান্ত চুক্তির জন্যই ঢাকায় আসছেন। মূলত তিনি সমঝোতার কথা বলেও আসলে বিএনপির সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হবে, এটা তারা চাইছে না। তারা চাইছে বিএনপিকে বাদ দিয়েই সরকার নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় আসবে এবং সরকার তাদের সব চাওয়া পূরণ করবে। এর মধ্যে ট্রানজিটের চূড়ান্ত চুক্তি একটি। এজন্য সবধরনের সহায়তা করবেন। সেই সঙ্গে তিনি সরকারের পাশে ভারত আছে, সেটাও নিশ্চিত করবেন। তবে শেখ হাসিনা এভাবে কেবল ভারতকে পাশে নিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করলেও তা পারবেন কি না, এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। সূত্র বলছে, শেখ হাসিনা ও ভারতের পরিকল্পনা সফল হবে না। তারা একা হয়ে যেতে পারে। সবাই মিলে এমন অবস্থা করতে পারে এবং দেশের অবস্থা এতটাই খারাপ হতে পারে যে শেষ পর্যন্ত তাকে নির্বাচন থেকে পিছু হটতে হতে পারে। তার পরিকল্পনা হচ্ছে নির্বাচন ৫ জানুয়ারি করবেনই। কিন্তু কোনো কারণে করতে না পারলেও বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে পারে, এমন কোনো পথ তিনি তৈরি করবেন না। এজন্য তিনি বিএনপিকে বাদ দিয়েই এগিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে দেশের এই অবস্থা থেকে দেশ ও জনগণের জানমাল রক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে পারেন। তাদের সহায়তায় সরকার পরিচালিত হতে পারে। জরুরি অবস্থাও ঘোষণা হতে পারে। তিনি সরকার প্রধান থেকেই কাজ করার চেষ্টা করবেন.....। ’
বাংলাদেশ সফর শেষে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। এ সপ্তাহেই বান কি মুনের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করবেন তারানকো। বাংলাদেশের চলমান সংকটের অবসান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তারানকো। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ.কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে কথা বলার সময় এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারানকো। তিনি বলেন, আশা করি বাংলাদেশে নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তারানকোর প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠকের কথা আছে মোমেনের। ওই বৈঠকেই জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো দিক-নির্দেশনা দিতে পারেন।
নিউইয়র্কের সূত্রমতে, বাংলাদেশ নিয়ে কোনো কিছুতেই কাজ না হলে জাতিসংঘ থেকে বাংলাদেশের সৈন্য প্রত্যাহার ও ফেরত পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জাতিসংঘে জানুয়ারিতে নতুন করে যে ফোর্স যাওয়ার কথা সেটাও পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধের সম্ভাবনা থাকবে একথা এখন আমেরিকান প্রবাসীদের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রমতে, তারানকো তার রিপোর্টে পুরো প্রেক্ষাপট বর্ণনাও করবেন বান কি মুনের কাছে। এরপর বান কি মুন সিদ্ধান্ত নেবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বান কি মুন আরও একবার দুই নেত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তবে এটা নির্ভর করবে সরকারের মনোভাবের ওপর। এর আগে তিনি শেখ হাসিনাকে ফোন করলে তিনি সংসদের কথা ও সংবিধানের কথাই বলেছেন। জাতিসংঘ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করবেন তেমন কথাই বলেছেন। বান কি মুন বাংলাদেশের পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এটা তিনি শেখ হাসিনাকে লেখা সর্বশেষ চিঠিতেও লিখেছেন। সেখানে বর্ণনাও করেছেন নিউইয়র্ক বৈঠকের কথা। এরপরও যদি শেখ হাসিনা এবং নিজ দাবিতে অনড় থাকা খালেদা জিয়া অনুরোধ রক্ষা না করেন তাহলে তিনি বাধ্য হবেন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে। যদিও কেউ কেউ বলছেন, প্রয়োজনে তিনি একবার বাংলাদেশ সফরও করতে পারেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।
এদিকে শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন মহল থেকে বোঝানো হয়েছে, জাতিসংঘ সৈন্য প্রত্যাহার করার হুমকি দিলেও কোনো কাজ হবে না। কারণ এ সময়ে জাতিসংঘ চাইলেই তা করতে পারবে না। তারা বিভিন্ন দেশে সৈন্য পাঠিয়েছে। হঠাৎ করে যদিও ওই সব সৈন্য ফেরত পাঠায় তাহলে এটা জাতিসংঘের জন্যই সমস্যা হবে। বাংলাদেশের মতো এত সৈন্য অন্য কোনো দেশ পাঠাবে না। এতে করে তারাও একটা সমস্যায় পড়বে। নতুন সৈন্য না নেয়া হলে পুরনো যারা আছে তাদেরও মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, সেই ক্ষেত্রে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে উল্টো চাপে পড়বে জাতিসংঘ।
এদিকে একাধিক সূত্র বলেছে, শেখ হাসিনার কাছেও বিকল্প রয়েছে যে, পশ্চিমা মহলের তরফ থেকে সহযোগিতা তুলে নেয়ার পরও কেবল সেনাবাহিনী ও ভারতের সহযোগিতা থাকলে তিনি নির্বাচন করবেনই। এখনও এ দুটোই তার ফেভারে রয়েছে। তিনি এটাও জানেন, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন। মাঠ পর্যায়ের সবাই উপরের দিক-নির্দশনা অনুযায়ী কাজ করবেন এমন সিদ্ধান্ত বহাল রাখা যাবে কি না, এটা নিয়ে কিছুটা দোটানা রয়েছে। দোটানার কারণে সরকার চিন্তা করছে যে, বেশি আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে উপরের নির্দেশ যদি সবাই না মানে তা হলে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দেশে যেভাবে জানমালের ক্ষতি হচ্ছে এটা কারো পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তারা নিজেরাও উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। এ কারণে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার জন্য আগেভাগে সেনাবাহিনী নামাতে চাইলেও এখনও তা চূড়ান্ত হয়নি। একে তো সেনাবাহিনীর এখন শীতকালীন প্রশিক্ষণ ও মহড়া চলছে। তাদের বেশির ভাগই এবার দূর-দূরান্তে নয়, কাছাকাছি প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন। তাদের প্রশিক্ষণ চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে তাদের নামাতে হলে শীতকালীন প্রশিক্ষণে ব্যাঘাত ঘটবে। এ ছাড়াও তারা প্রশিক্ষণ বাদ দিয়ে বেশি সময় ধরে মাঠে থাকতে পারবে না। যদিও সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করেই সেনাবাহিনীকে আরও পরে নামানোর ব্যাপারে ভাবছে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তবে সদস্যদের মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে, তারা প্রস্তুতও আছে। আর এই প্রস্তুতি নিয়েই তারা মাঠেও প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছে। যখন তাদের ডাকা হবে তখনই তারা আবার মাঠে নির্বাচনী কাজে সহায়তা করতে আসবে। - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2013/12/17/149196.php#sthash.q4Mrr5dL.rW3rLTmp.dpuf

লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে : সারাদেশে নিহত ১১

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে একদিকে উত্তাল দেশ, অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফঁসিতে বিক্ষুব্ধ জামায়াত শিবির কর্মীরা। সব মিলিয়ে সারাদেশে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত কয়েকদিনের মতো শনিবারও সারাদেশে ঘটেছে সংঘর্ষ, আগুন, ভাঙচুর, হামলা-পাল্টা হামলা ও পুলিশের গুলির ঘটনা। এসব ঘটনায় ২ জেলায় ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট বাজারে পুলিশের গুলিতে ৬ শিবির কর্মী এবং নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ পুলিশ ও ১৮ দলের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ আওয়ামী লীগ ও ২ জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।

নোয়াখালী : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট বাজারে পুলিশের গুলিতে ৬ শিবির কর্মী নিহত হয়েছে। শনিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৪টার দিকে উপজেলা সদরের মসজিদের সামনে রবিবারের হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। মিছিলটি উপজেলা সার্ভার স্টেশনের কাছে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে মতিউর রহমান (২৪) ও সাইফুল ইসলাম নামে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অপর একজনের নাম জানা যায়নি।

তবে, ইসলামী ছাত্রশিবির দাবি করেছে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে ৬ জামায়াত শিবির কর্মীকে হত্যা করেছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল জববার বলেন, নোয়াখালীতে ছাত্র শিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে ছয় নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। গণমাধ্যমে তিনজন বলা হলেও ইতোমধ্যে ছয় নেতাকর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরা হলেন- শিবির কর্মী আব্দুস সাত্তার, সাইফুল ইসলাম, মতিউল ইসলাম, রায়হান উদ্দিন, জামায়াত কর্মী নূর হোসেন রাসেল ও মিশু।

জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বিজিবি সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়েছে।

নীলফামারী : নীলফামারীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরের সঙ্গে ১৮ দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত ও প্রায় অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার বিকালে জেলার সদর উপজেলার রামগঞ্জ বাজারে এ সংঘর্ষ হয়।

তবে পুলিশ বা দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিহত হওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে জামায়াত দুজনকে ও আওয়ামী লীগ তিনজনকে নিজেদের নেতাকর্মী বলে দাবি করেছে।

যারা নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে তারা হলেন- আবু বক্কর সিদ্দিক (৪২), খোরশেদ চৌধুরী (৫৫), ফরহাদ হোসেন (২৫), মুরাদ হোসেন (২০) ও খয়রাত হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ মাহমুদকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদের মধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিক ও খয়রাত হোসেনকে জামায়াত কর্মী বলে দাবি করেছে দলটি। নিহত ব্যক্তিদের বাকি তিনজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মী। আশঙ্কা করা হচ্ছে- নিহতদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুলিশ প্রহরায় সংসদ সদস্য নূরকে সন্ধ্যায় নীলফামারীর বাসায় পৌঁছে দেয়া হয় বলে জানা গেছে। রাতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা নীলফামারী শহরে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। এ নিয়ে গোটা শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর একটি গাড়ি বহর নিয়ে জেলা সদরে ফেরার পথে তার গাড়ি বহরে থাকা সফর সঙ্গীরা গাড়ি থামিয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। এর ফলে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে তাদেরকে প্রতিরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে সরকারি দলের সাথে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব যোগ দেয়। ত্রিমুখী এ সংঘর্ষে অন্তত ৪০টি মোটর সাইকেল ভাঙচুরসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়।

তবে পুলিশ জানায়, বিকাল ৪টার দিকে জিপ, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে আসাদুজ্জামান নূর ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রামগঞ্জ বাজারে যান। এ সময় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালালে দুপক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়।

সিলেট : শনিবার সন্ধ্যায় শিবির কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। এছাড়া তারা সড়ক অবরোধেরও চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় কাজিটুলা থেকে পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে। এরা হলেন জামায়াত কর্মী ফখরুল ইসলাম শামিম ও শিবির কর্মী মিলন আহমদ। ঘটনার পর নগরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে নগরীর রিকাবীবাজার, শাহী ঈদগাহ, কাজিটুলা, নয়াসড়ক, মদিনা মার্কেট ও জিন্দাবাজার এলাকায় প্রায় ৪০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের শব্দে ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধেরও চেষ্টা চালায় শিবির নেতাকর্মীরা।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. আয়ূব জানান, কয়েকটি স্থানে শিবির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছে। নাশকতারোধে নগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান আয়ূব।

ঝালকাঠি : বরিশাল-কাকচিড়াগামী বিআরটিসি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে জামায়ত শিবির। সন্ধ্যায় ঝালকাঠির ব্রাক মোড় এলাকায় জামায়াত শিবির মিছিল করে। এ সময় বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা বিআরটিসি গাড়িটি ভাংচুর করে তারা। পরে পেট্রোলবোমা ছুড়ে দিলে গাড়িতে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু গাড়িতে পানি না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পূর্বেই গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে গাড়ির চালক রুহুল আমিন (৪০) সহ ৫ জন আহত হয়েছে। অন্যরা হলো- মো. নাসির উদ্দিন (৩৫), শেফালী বেগম (৫০), আছাদ উল্লাহ (২৫) ও সোহাগ গাজী (৩০)।

প্রত্যক্ষদশীরা জানান, সন্ধ্যা ৬ টায় বরিশাল থেকে খুলনা যাবার পথে নারায়ে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। ঘটনার সাথে সাথে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

ঝালকাঠি’র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফম আনোয়ার হোসেন জানান, জামাত শিবির এ হামলা চালায়। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

জয়পুরহাট : জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কের হিচমী এলাকায় পেঁয়াজ বোঝাই একটি ট্রাক ও ২টি অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগসহ অন্তত ১৫টি যানবাহনে ভাংচুর চালায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ নাশকতা চালানো হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যায় দিনাজপুরের হিলি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ঁেপয়াজ ভর্তি একটি ট্রাক জয়পুরহাট-ঢাকা মহাসড়কের হিচমি এলাকায় পৌছুলে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা ওই ট্রাকসহ ২টি অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আরো অন্তত ১৫টি যানবাহনে ভাংচুর চালায় তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ৪৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশিদ সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

টাঙ্গাইল : সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে এলে রাস্তার উপর আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এ সময় রাস্তার দু’পাশে যানবাহন আটকা পরলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা ৭/৮টি সিএনজি ও আটোরিকশা ভাংচুর করে। মুহূর্তের মধ্যে শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর শহরের আতংক বিরাজ করছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্তি পুলিশ ও র‌্যাবের টহল চলছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ১২৮, আওয়ামী লীগের ১১৭, দরকার আর ৩৪

ঢাকা: সরকারি দল আওয়ামী লীগের শতাধিক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। বিরোধী দলবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষ দিন ছিল শুক্রবার। একাধিক প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন শতাধিক প্রার্থী।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নির্দেশে  দলের অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীর সংখ্যা বেড়েছে।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৪৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার স্থায়ী হয়েছিল দেড় মাস।

রাত ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ২০৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সংখ্যা শতাধিক।

কমিশন সচিবালয় সর্বশেষ যে হিসাব দিয়েছে তাতে ১২৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১১৭ এবং জাতীয় পার্টির ৫ জন। ৩০০ আসনের সংসদে সরকার গঠন করতে আওয়ামী লীগের আর দরকার মাত্র ৩৪ আসন। আওয়ামী লীগ, জাপা, জাতীয় পার্টি-জেপিসহ এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ১৬টি দল। যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী:

আওয়ামী লীগ: দিনাজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বগুড়া-১ আব্দুল মান্নান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ গোলাম রব্বানী, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, ভোলা-১ শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ঝালকাঠি-২ আসনে ভূমি-মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, টাঙ্গাইল-৪ আসনে পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, মানিকগঞ্জ-২ মমতাজ বেগম, ঢাকা-২ আসনে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা-৯ সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা-১৩ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৯ আসনে এনামুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ শামীম ওসমান, মাদারীপুর-২ আসনে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, সুনামগঞ্জ-২ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সিলেট-১ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, চাঁদপুর-১ আসনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-৩ আসনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, নোয়াখালী-৫ আসনে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, চট্টগ্রাম-৭ আসনে বন-মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, নীলফামারী-২ আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ।
 
জাতীয় পার্টি: চট্টগ্রাম-৫ জাপার সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও পানি পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বগুড়া-২ আসনে শরিফুল ইসলাম, বগুড়া-৩ আসনে নুরুল ইসলাম তালুকদার, ময়মনসিংহ-৫ আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদ, কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
 
জেপি: পিরোজপুর-২ আসনে জেপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন।
 
ওয়ার্কার্স পার্টি: ঢাকা-৮ রাশেদ খান মেনন ও রাজশাহী-২ আসনে ফজলে হোসেন বাদশা।
 
জাসদ: কুষ্টিয়া-২ হাসানুল হক ইনু, চট্টগ্রাম-৮ মাঈনুদ্দিন খান বাদল ও ফেনী-১ শিরিন আখতার।

বাংলাদেশ নিয়ে আমেরিকাকে চাপ ভারতের

ঢাকা: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সদর্থক ভূমিকা নিতে আমেরিকার ওপর চাপ তৈরি করল ভারত।  সূত্রের খবর, বাংলাদেশ নিয়ে হোয়াইট হাউসের অবস্থানে হতাশ সাউথ ব্লক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে, কোনো আড়াল না রেখেই সেই হতাশার কথা আমেরিকাকে জানানো হয়েছে।

শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের  আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর দিয়েছে।

আনন্দবাজার জানায়, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংহ তার সদ্যসমাপ্ত মার্কিন সফরে সে দেশের পররাষ্ট্রসচিব ওয়েন্ডি শেরম্যানের সঙ্গে ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাউথ ব্লক মার্কিন নেতৃত্বকে স্পষ্ট জানিয়েছে, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার প্রশ্নে পশ্চিম বিশ্বের উচিত বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক এবং হিংসামুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করা।

আনন্দবাজার লিখেছে, কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো সক্রিয় সহযোগিতার পদক্ষেপ আমেরিকা করেনি বলেই মনে করছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। সরকারি সূত্রের দাবি, আমেরিকা মনে করে জামায়াতে ইসলামী জঙ্গিবাদের সমর্থক নয়। তাই রাজনৈতিক পরিসরে তাদের জায়গা দিলে, মৌলবাদী তালিবানপন্থীদের সঙ্গে লড়াইয়ের লাভই হবে। হোয়াইট হাউস থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফোনও গিয়েছে। তাকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, বিএনপি-র কথা মেনে পদত্যাগ করে, সরকার ভেঙে দিয়ে ভোটে যাওয়ার জন্য।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিতর্কের সময় থেকেই আমেরিকার বিরাগভাজন হাসিনার আওয়ামী লীগ। এ কথাও আমেরিকা মনে করে, বিএনপি তাদের নীতির প্রতি অনেকটাই বিশ্বস্ত। তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের বাজারে ঢোকা মার্কিনিদের পক্ষে সহজ হবে। রণকৌশলগত প্রশ্নেও বিএনপি-জোট এই মুহূর্তে আমেরিকার পক্ষে কাম্য।

আনন্দবাজারের ভাষায়, কিন্তু জামায়াতের হিংসাত্মক কাজের জন্য দেশের পরিস্থিতি যে ক্রমশই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, সে কথাই আলোচনার মাধ্যমে আমেরিকাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে নয়া দিল্লি। শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরুদ্দিন জানান, “বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কথা হয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব মার্কিন নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিকে দেখা হয়েছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে উত্তাল বাংলাদেশ। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কায় ভারতও। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের কথায়, “আমরা এ কথা বিশ্বাস করি যে একটি গণতান্ত্রিক দেশের মানুষ হিসেবে বাংলাদেশী রাজনীতিকরা তাদের মতপার্থক্য কথার মাধ্যমেই মেটাবেন।”

আনন্দবাজার লিখেছে, মুখে এ কথা বললেও বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা নয়া দিল্লির রয়েছেই। তা ছাড়া যে সুবিপুল পুঁজি ইসলামিক ব্যাংকের মাধ্যমে জামায়াত-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের হাতে গিয়েছে, তার কুপ্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী সংগঠনও এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। তবে পাঁচ হাজার বাড়তি বিএসএফ জওয়ান মোতায়েন হয়েছে। সীমান্তের যেখানে কাঁটাতার নেই সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অনিল গোস্বামী দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতি জানিয়েছেন। ব্যবস্থা নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার নির্দেশে রাজ্য পুলিশের ডিজি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ব্যবস্থা নিয়েছেন।

‘কাদের মোল্লার ফাঁসি সংঘাতকে আরো উস্কে দেবে’-অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির পর বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরকে ‘মানবাধিকারের জন্য অবমাননাকর’ উল্লেখ কর এ সংগঠনটি বলে, সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধীতা করে তারা। কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের কিছুক্ষণের মধ্যে এ বিবৃতি প্রকাশ করে তারা। বৃহস্পতিবার রাতে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসলামী নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়টি লজ্জার এবং প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে জনগনকে রক্ষায় বিষয়টি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশের গবেষক আব্বাস ফয়জে বলেছেন, আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা উচিত হয়নি। মৃত্যুদন্ড মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং এমন কোনো শাস্তি দেয়া উচিত নয় যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে এমনিতেই দেশ টানা সংঘাতের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে তার উপর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরা করার পর সংঘাতকে আরো উস্কে দেবে। দেশের সংখ্যালঘুদেও বাড়িঘরে হামলার ঘটনার কথাও শোনা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১ মিনিটে জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে ছয়জন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দন্ড কার্যকর করা হয়। কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়ার মধ্য দিয়ে এই প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কোনো অপরাধীর বিচার কার্যকর হল। ফাঁসি কার্যকর করার পর ১০টা ৫ মিনিটের দিকে কারাগারের ভেতরে একটি এম্বুলেন্স প্রবেশ করে। এই এম্বুলেন্সেই কাদের মোল্লার মরদেহ পাঠানো হয় ফরিদপুরে তার নিজ বাড়িতে এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। এসময় আইজিপি প্রিজন মঈন উদ্দিন খন্দকার, ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার ও ঢাকার সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মৃধা, ঢাকা জেলা প্রশাসক আবদুল মোক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
রাত ৯ টার দিকে তারা কারাগারে প্রবেশ করেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

একই সঙ্গে রাত ৯টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন জেলা ম্যজিষ্ট্রেট, কারাগারের পেশ ইমাম আব্দুল হাই, ডিএমপি লালবাগের ডিসি হারুন অর রশিদ।

একই সময়ে একটি লাশবাহী এম্বুলেন্সও কারাগারে প্রবেশ করে।

কারাগার সূত্রে জানাগেছে, ফাঁসি কার্যকরের ঘণ্টাখানেক আগে আব্দুল কাদের মোল্লাকে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চের কাছে নিয়ে আসা হয়। এরপর দুইজন কারারক্ষী তাকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যায়। এসময় আব্দুল কাদের মোল্লাকে ভাবলেশহীন, অথচ স্থির ও শান্ত দেখাচ্ছিলো। ধীর পায়ে তিনি ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের সংকেত পেয়ে জল্লাদ শাহজাহান ফাঁসির মঞ্চের লিভারে টান দেন। সাথে সাথে আব্দুল কাদের মোল্লার দেহ ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে থাকে। ফাঁসির সিরিয়াল নম্বর ২২০১।

এর আগে কারাগারে তাকে শেষ গোসল করানো হয়। অতঃপর কারামসজিদের ইমাম তাকে তওবা পাঠ করান।

নানা আলোচনা-সমালোচনা ও জল্পনা-কল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানের অবসান ঘটিয়ে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

আবদুল কাদের মোল্লার লাশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফরিদপুরে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হবে এবং সেখানেই তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য,  ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের এই নেতাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রইবুনাল মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ১৩ জুলাই অন্য একটি মামলায় কাদের মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তদন্ত শুরু হয় ওই বছরের ২১ জুলাই। গত বছরের ২৮ মে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ৩ জুলাই থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশের পর রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। এর নেতৃত্বদেন বাম রাজনৈতিক সংগঠন ও আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।

এরপর সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) আইন সংশোধন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) সংশোধন বিল, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। সংশোধনের ফলে আসামিপক্ষের মতো রাষ্ট্রপক্ষও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সমান সুযোগ পায়। আগে আইনে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার সুযোগ ছিল না।

আইন সংশোধনের পর গত ৩ মার্চ কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আর সাজা থেকে অব্যাহতি চেয়ে পরদিন ৪ মার্চ আপিল করেন কাদের মোল্লা। ১ এপ্রিল থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষ হওয়ার ৫৫ দিনের মাথায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। এরপর রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্ট থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

গত ৮ ডিসেম্বর বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

১০ ডিসেম্বর বিকালে হঠাৎ করেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর স্ত্রী সানোয়ার জাহানের কাছে চিঠি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী রাত আটটার দিকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দুটো মাইক্রোবাসে করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে ফিরে যান। রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানান, ১০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হবে। ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতিও ছিল কারা কর্তৃপক্ষের। তবে ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোটের্র আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বাসায় হাজির হন কাদের মোল্লার আইনজীবীরা। পরে তাঁর ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিত করেন চেম্বার বিচারপতি। তিনি ১১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।

শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে তখন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যায় কাদের মোল্লার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করার অনুমতি দেয়।

মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজ ফাঁসি কার্যকরে বাধা নেই

ঢাকা: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এতে তার ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকরে আইনি কোনো বাধা রইল না।
 
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ৮ মিনিটে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
 
এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। প্রথমে শুনানি  করেন আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। সরকার পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব এ আলম। বেলা ১১টা পর্যন্ত শুনানির পর আদালত আধঘণ্টার জন্য মুলতবি করা হয়।
 
শুনানি উপলক্ষে সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। আদালতে প্রবেশের প্রতিটি ফটকেই পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যকে দেখা গেছে।
 
প্রসঙ্গত, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর আইনজীবীদের আবেদনে মঙ্গলবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রায় কার্যকর স্থগিত করেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে এ ফাঁসি কার্যকর করার কথা ছিল। সেজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছিল।
 
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ফাঁসির রায় কার্যকর করার স্থগিতাদেশ বিষয়ে এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রিভিউ আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নে শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকরের ওপর চেম্বার আদালতের দেয়া স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন।

রাজশাহীতে দুই ব্যাংক, চেম্বারে পেট্রোল বোমা

রাজশাহী, ১১ ডিসেম্বর:- রাজশাহীতে ডাচ বাংলা ও মার্কেনটাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক এবং চেম্বার ভবনে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেছে ছাত্রশিবির। এসময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তারা। এসময় শিবির কর্মীরা অন্তত ১০টি ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কাঁচ ভাঙচুর করে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কাদের মোল্লার ফাঁসি রায় কার্যকর করার চেষ্টার প্রতিবাদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে এ তাণ্ডব চালায়। মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে মহানগরীর নিউ মার্কেটের সামনে থেকে মিছিল বের করে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা। মিছিল বের করে রাস্তার দুই পাশের ভবনে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তারা। এসময় মহানগরীর অলোকার মোড়ে ডাচ বাংলা ও মার্কেনটাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক এবং চেম্বার ভবনে ছাত্রশিবির কর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও পেট্রোল বোমা মেরে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ ও দমকল কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে ওসি জানান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ আটক অভিযান শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী দেখা করলেন না: তিন পয়েন্টে আটকে গেল

‘সাংগঠনিক কাজে বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকায় তোমার হক সঠিকভাবে আদায় করতে পারিনি, তোমাকে সময় দিতে পারিনি, ক্ষমা করে দিও।’ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে স্ত্রী সানোয়ারা জাহানের কাছ থেকে এভাবেই শেষ বিদায় নিয়েছিলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা। পুত্র হাসান জামিলসহ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি তোমাদের অভিভাবক ছিলাম। এ সরকার যদি আমাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তাহলে সেটা হবে আমার শাহাদাতের মৃত্যু। আমার শাহাদাতের পর মহান রাব্বুল আলামীন তোমাদের অভিভাবক হবেন। তিনিই উত্তম অভিভাবক। সুতরাং তোমাদের দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। ইসলামী আন্দোলনকে বিজয়ী করার মাধ্যমে আমার হত্যার প্রতিশোধ নিও। রাত ৮টায় স্বজনদের ওই সাক্ষাতের আগে তিনি জানতেন না কারা কর্তৃপক্ষ তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে। পরিবারের সদস্যদের কাছেই প্রথম তিনি এ সংবাদ শোনেন। কাদের মোল্লার  ছেলে হাসান জামিলসহ পরিবারের সদস্যরা এসব কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে কারা কর্তৃপক্ষের জরুরি চিঠি পাওয়ার পর রাত ৮টায় আবদুল কাদের মোল্লার সঙ্গে ঢাকা  কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাতের জন্য যান স্ত্রী সানোয়ারা জাহান, ছেলে হাসান জামিল ও ৩  মেয়েসহ পরিবারের ২৩ সদস্য। রাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে- সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না আবদুল কাদের মোল্লা। তখন পর্যন্ত তার শারীরিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করা হয়নি। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে জানতে পারেন, কারা কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের জন্য তাদের ডেকে এনেছে। এ সময় আবদুল কাদের মোল্লা পরিবারের সদস্যদের সামনেই এক কারারক্ষীকে জিজ্ঞাসা করেন কয়টা নাগাদ ফাঁসি হতে পারে। তবে কারারক্ষী তাৎক্ষণিক বলতে পারেনি। হাসান জামিল জানান, আব্বা রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে হঠাৎ আমাদের আসার খবর পান। খাওয়া শেষে তিনি আমাদের সামনে আসেন। কারা কর্র্তৃপক্ষের চিঠির কথা শুনেই তিনি বুঝতে পারেন শিগগিরই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। তবে এতে তার মাঝে কোন রকম পরিবর্তন দেখা যায়নি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্বাভাবিক। কথাবার্তা বলেছেন স্বাভাবিকভাবেই। বাচ্চাদের আদর করেছেন। নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধেই আমাকে হত্যা করা হচ্ছে। শাহাদাতের মৃত্যু সকলের নসিবে হয় না। আল্লাহতায়ালা যাকে শহীদী মৃত্যু  দেন সে সৌভাগ্যবান। আমি শহীদী মৃত্যুর অধিকারী হলে তা হবে আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমার প্রতিটি রক্তকণিকা ইসলামী আন্দোলনকে বেগবান করবে ও জালেমের ধ্বংস ডেকে আনবে। জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমি নিজের জন্য চিন্তিত নই। আমি দেশের ভবিষ্যৎ ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত। আমি আমার জানামতে  কোন অন্যায় করিনি। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। আমি অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করিনি, করবো না। দুনিয়ার কোন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। জীবনের মালিক আল্লাহ। কিভাবে আমার মৃত্যু হবে তা আল্লাহই নির্ধারণ করবেন। কোন ব্যক্তির সিদ্ধান্তে আমার মৃত্যু কার্যকর হবে না। আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ীই আমার মৃত্যুর সময় ও তা কার্যকর হবে। সুতরাং আমি আল্লাহর ফয়সালা সন্তুষ্টচিত্তে  মেনে নেবো। পরিবারের সদস্যদের তিনি আরও বলেন, তোমরা ধৈর্যের পরিচয় দেবে। একমাত্র ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমেই আল্লাহতায়ালার ঘোষিত পুরস্কার পাওয়া সম্ভব। দুনিয়া নয়, আখেরাতের মুক্তিই আমার কাম্য। আমি দেশবাসীর কাছে আমার শাহাদত কবুলিয়াতের জন্য দোয়া চাই। দেশবাসীর কাছে আমার সালাম  পৌঁছে দিও। হাসান জামিল জানান, ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পরিবারের সদস্যদের সামনে অবস্থান করেন কাদের মোল্লা।  বিদায় বেলায় স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা বলেন তিনি, ‘ধৈর্য ধরো, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখো। তোমার হক যথাযথভাবে আদায় করতে পারিনি বলে ক্ষমা করে দিও।’ প্রতি উত্তরে আম্মা বলেছেন- ‘দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকায় আপনার সেবা করতে পারিনি। বিদায়বেলায়ও পাশে থাকতে পারছি না। জীবন চলার পথে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় কোন অন্যায় হয়ে থাকলে মাফ করে দিবেন।’ এ সময় খানিকটা আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হলেও কাদের মোল্লা ছিলেন দৃঢ়, অবিচল। ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলে তিনি সবার কাছ থেকে বিদায় নেন।

প্রধানমন্ত্রী দেখা করলেন না: তিন পয়েন্টে আটকে গেল

‘সাংগঠনিক কাজে বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকায় তোমার হক সঠিকভাবে আদায় করতে পারিনি, তোমাকে সময় দিতে পারিনি, ক্ষমা করে দিও।’ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে স্ত্রী সানোয়ারা জাহানের কাছ থেকে এভাবেই শেষ বিদায় নিয়েছিলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা। পুত্র হাসান জামিলসহ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি তোমাদের অভিভাবক ছিলাম। এ সরকার যদি আমাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তাহলে সেটা হবে আমার শাহাদাতের মৃত্যু। আমার শাহাদাতের পর মহান রাব্বুল আলামীন তোমাদের অভিভাবক হবেন। তিনিই উত্তম অভিভাবক। সুতরাং তোমাদের দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। ইসলামী আন্দোলনকে বিজয়ী করার মাধ্যমে আমার হত্যার প্রতিশোধ নিও। রাত ৮টায় স্বজনদের ওই সাক্ষাতের আগে তিনি জানতেন না কারা কর্তৃপক্ষ তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে। পরিবারের সদস্যদের কাছেই প্রথম তিনি এ সংবাদ শোনেন। কাদের মোল্লার  ছেলে হাসান জামিলসহ পরিবারের সদস্যরা এসব কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে কারা কর্তৃপক্ষের জরুরি চিঠি পাওয়ার পর রাত ৮টায় আবদুল কাদের মোল্লার সঙ্গে ঢাকা  কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাতের জন্য যান স্ত্রী সানোয়ারা জাহান, ছেলে হাসান জামিল ও ৩  মেয়েসহ পরিবারের ২৩ সদস্য। রাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে- সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না আবদুল কাদের মোল্লা। তখন পর্যন্ত তার শারীরিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করা হয়নি। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে জানতে পারেন, কারা কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের জন্য তাদের ডেকে এনেছে। এ সময় আবদুল কাদের মোল্লা পরিবারের সদস্যদের সামনেই এক কারারক্ষীকে জিজ্ঞাসা করেন কয়টা নাগাদ ফাঁসি হতে পারে। তবে কারারক্ষী তাৎক্ষণিক বলতে পারেনি। হাসান জামিল জানান, আব্বা রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে হঠাৎ আমাদের আসার খবর পান। খাওয়া শেষে তিনি আমাদের সামনে আসেন। কারা কর্র্তৃপক্ষের চিঠির কথা শুনেই তিনি বুঝতে পারেন শিগগিরই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। তবে এতে তার মাঝে কোন রকম পরিবর্তন দেখা যায়নি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্বাভাবিক। কথাবার্তা বলেছেন স্বাভাবিকভাবেই। বাচ্চাদের আদর করেছেন। নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধেই আমাকে হত্যা করা হচ্ছে। শাহাদাতের মৃত্যু সকলের নসিবে হয় না। আল্লাহতায়ালা যাকে শহীদী মৃত্যু  দেন সে সৌভাগ্যবান। আমি শহীদী মৃত্যুর অধিকারী হলে তা হবে আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমার প্রতিটি রক্তকণিকা ইসলামী আন্দোলনকে বেগবান করবে ও জালেমের ধ্বংস ডেকে আনবে। জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমি নিজের জন্য চিন্তিত নই। আমি দেশের ভবিষ্যৎ ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত। আমি আমার জানামতে  কোন অন্যায় করিনি। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। আমি অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করিনি, করবো না। দুনিয়ার কোন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। জীবনের মালিক আল্লাহ। কিভাবে আমার মৃত্যু হবে তা আল্লাহই নির্ধারণ করবেন। কোন ব্যক্তির সিদ্ধান্তে আমার মৃত্যু কার্যকর হবে না। আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ীই আমার মৃত্যুর সময় ও তা কার্যকর হবে। সুতরাং আমি আল্লাহর ফয়সালা সন্তুষ্টচিত্তে  মেনে নেবো। পরিবারের সদস্যদের তিনি আরও বলেন, তোমরা ধৈর্যের পরিচয় দেবে। একমাত্র ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমেই আল্লাহতায়ালার ঘোষিত পুরস্কার পাওয়া সম্ভব। দুনিয়া নয়, আখেরাতের মুক্তিই আমার কাম্য। আমি দেশবাসীর কাছে আমার শাহাদত কবুলিয়াতের জন্য দোয়া চাই। দেশবাসীর কাছে আমার সালাম  পৌঁছে দিও। হাসান জামিল জানান, ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পরিবারের সদস্যদের সামনে অবস্থান করেন কাদের মোল্লা।  বিদায় বেলায় স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা বলেন তিনি, ‘ধৈর্য ধরো, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখো। তোমার হক যথাযথভাবে আদায় করতে পারিনি বলে ক্ষমা করে দিও।’ প্রতি উত্তরে আম্মা বলেছেন- ‘দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকায় আপনার সেবা করতে পারিনি। বিদায়বেলায়ও পাশে থাকতে পারছি না। জীবন চলার পথে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় কোন অন্যায় হয়ে থাকলে মাফ করে দিবেন।’ এ সময় খানিকটা আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হলেও কাদের মোল্লা ছিলেন দৃঢ়, অবিচল। ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলে তিনি সবার কাছ থেকে বিদায় নেন।

কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের চিঠি

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার নাভি পিল্লাই। মঙ্গলবার কাদের মোল্লার জন্য শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠানোর তথ্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে তুলে ধরা হয়েছে। নাভি পিল্লাই কাদের মোল্লাকে একজন রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করে তাকে এখনি ফাঁসিতে না ঝোলানোর অনুরোধ করেছেন। এর আগে কাদের মোল্লাকে মঙ্গলবার ফাঁসিতে ঝোলানো হবে বলে তার দল জামায়াতে ইসলামীর আশঙ্কা প্রকাশের মধ্যে সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের স্বাধীন দুই বিশেষজ্ঞ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কাদের মোল্লা ন্যায়বিচার পাননি অভিযোগ তুলে গাব্রিয়েলা নাউল ও ক্রিস্টফ হেইন্স এই বিবৃতি দেন। এদিকে কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও কাদের মোল্লার আইনজীবীদের আবেদনে এর কার্যকারিতা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিতের আদেশে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। জাতিসংঘের প্রেস রিলিজ UN rights chief makes last-minute appeal to halt execution of Bangladeshi politician United Nations High Commissioner for Human Rights Navi Pillay today called for an eleventh-hour stay of execution for Abdul Quader Mollah, a Bangladeshi politician convicted of war crimes in a trial that did not meet international standards for imposition of the death penalty. The Office of the High Commissioner (OHCHR) has written to Prime Minister Sheikh Hasina of Bangladesh in a last-minute appeal to halt the execution, which was scheduled to take place later today, but has reportedly been postponed until at least Wednesday. Mr. Mollah was condemned to life imprisonment by the Bangladesh International Crimes Tribunal, a special domestic court with the jurisdiction and competence to try and punish any person accused of committing atrocities, including genocide, war crimes and crimes against humanity, in Bangladesh, including during the country’s 1971 independence war. After the Prosecution appealed the Tribunal’s decision to sentence him to life imprisonment, the country’s Supreme Court sentenced Mr. Mollah to death on 17 September – a ruling that cannot be appealed. In a statement last month, the High Commissioner urged the Bangladeshi Government not to proceed with the death penalty in cases before the International Crimes Tribunal, particularly given concerns about the fairness of the trials. “The United Nations opposes the imposition of the death penalty under any circumstance, even for the most serious international crimes,” stated a news release from her office. Two UN Special Rapporteurs, on the independence of judges and lawyers and on summary executions, have also called for the execution to be stayed, amid concerns that Mr. Mollah did not receive a fair trial.

গুলশানে ফখরুল-আশরাফের বৈঠক চলছে

ঢাকা: জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর উপস্থিতিতে গুলশান ১১০ নম্বর রোডে ইউএনডিপির একটি প্রকল্প অফিসে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুটি প্রতিনিধি দল।

বিএনপির প্রতিনিধি দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ।

বিএনপি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিএনপির পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত আছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। 

আওয়ামী লীগের পক্ষে উপস্থিত আছেন- আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ।

ফের হরতাল ডেকেছে জামায়াত

ঢাকা: ফের হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বুধবার তৃতীয় দফায় হরতাল আহ্বান করলো জামায়াত। মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা ৩৩ মিনিটে জামায়াতের এক বিবৃতিতে এই হরতাল আহ্বান করা হয়।
বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. রফিকুল হক বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে জনাব আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যার সিদ্ধান্ত ঘোষণার প্রতিবাদে ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে ১১ ডিসেম্বর, বুধবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করা হলো।’
তিনি বলেন, ‘সরকার সংবিধান, সুপ্রিমকোর্ট রুলস, জেলকোড ও সার্বজনীন মানবাধিকারকে ভুলুণ্ঠিত করে সুপরিকল্পিতভাবে জনাব আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এবং ব্রিটিশ সিনিয়র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।’
মাননীয় চেম্বার জজ মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরিতা বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে সরকারকে বলতে চাই, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্য আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যার প্রয়াশ চালানো হলে তা বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে একটি নিকৃষ্ট পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকান্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’ এসময় তিনি কাদের মোল্লার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি সফল করে তোলার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। উল্লেখ্য এর আগে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়কে সরকারের পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে ৯ ডিসেম্বর সোমবার প্রথম দফায়, ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি দিয়েছিল জামায়াত।

প্রধান বিচারপতির কাছে যাচ্ছেন কাদের মোল্লার আইনজীবীরা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার পক্ষে রিভিউ পিটিশন নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে যাচ্ছেন তার আইনজীবীরা।প্রধান বিচারপতির কাছে যাচ্ছেন কাদের মোল্লার আইনজীবীরা কাদের মোল্লার এক আইনজীবী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক রিভিউ পিটিশন নিয়ে প্রধান বিচারপতির বাসায় যাবেন। চেম্বার জজ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি। আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মঙ্গলবার বিকেল একটি চিঠি কাদের মোল্লার স্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ারা জাহান ও নিকটাত্বীয়দের দেখা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মাহমুদুর রহমান রিমান্ডে অনাহারে, অনিদ্রায়

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আদালতে অভিযোগ করে বলেছেন, "রিমান্ডে নিয়ে আমাকে কোনো খাবার দেয়া হয়নি। শোবার জায়গাও দেয়া হয়নি। ছয় দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে মাহমুদুর রহমান এই অভিযোগ করেন। রোববার তেজগাঁও থানার পৃথক দুটি মামলায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট এমএ সালাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, আট মাস আগে গত ১১ এপ্রিল তিন মামলায় মাহমুদুর রহমানের ১৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। স্কাইপে সংলাপের মামলায় সাত দিন ও তেজগাঁও থানার দুটি মামলায় তিনদিন করে ছয়দিন পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়। স্কাইপে মামলায় মাহমুদুর রহমানকে সে রিমান্ড নেয়া হলেও পরে দুটি মামলায় তাকে সে সময় রিমান্ডে নেয়া হয়নি।

জরুরি বৈঠকে বিএনপি নেতারা

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন দলটির নেতারা। এ বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত আছেন। দুপুরের পর বাধিরাধার একটি বাসায় জাতিসংঘ দূত তারানকোর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে দুপুরের পর থেকে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। তবে কোন পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি। এ আলোচনা চলার মধ্যেই বিকাল পাঁচটার দিকে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি নেতারা। বৈঠকে মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী উপস্থিত আছেন।

সংলাপ চলছে যে কোনো সময় ফলাফলঃ তারানকো

জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকো জানিয়েছেন, সংলাপ চলছে এবং রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের পথে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

জরুরি বৈঠকে বিএনপি নেতারা

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন দলটির নেতারা। এ বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত আছেন। দুপুরের পর বাধিরাধার একটি বাসায় জাতিসংঘ দূত তারানকোর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে দুপুরের পর থেকে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। তবে কোন পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি। এ আলোচনা চলার মধ্যেই বিকাল পাঁচটার দিকে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি নেতারা। বৈঠকে মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী উপস্থিত আছেন

পুলিশের গাড়িতে হামলা, ওসিসহ আহত ৩০

রাজশাহী: জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতাল ও ১৮ দলের ডাকা অবরোধে পুলিশের গাড়িতে হামলার চালিয়েছেন শিবিরকর্মীরা। এসময় শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৪ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।  

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ, পুলিশের কনস্টেবল মিজান, রেজাউল করিম ও মিরাজ। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহানগরীর মতিহার থানার বিনোদপুর কদমতলা এলাকায়  শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করে রাস্তা অবরোধের করে। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি সেখানে গেলে শিবিরকর্মীরা ওই গাড়ি লক্ষ্য করে ৩০ থেকে ৪০টি ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

এসময় শিবিরকর্মীদের হামলায় গাড়িতে থাকা মতিহার থানার ওসি আবদুল মজিদসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন। কিছুক্ষণ পরে আরো পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপি চলা এ সংঘর্ষে বিনোদপুর ও আশেপাশের এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শিবিরকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
এতে পুলিশ সদস্য ছাড়া আরো ৩০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষে ৫ শিবিরকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিবির নেতাকর্মীরা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বাংলামেইলকে জানান, সংঘর্ষের পরে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তারেক রহমানের গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রত্যাহার

ঢাকা, ৯ ডিসেম্বর : বিদেশে অর্থ পাচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জারিকৃত সকল গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিস্তারিত আসছে...

শেখ হাসিনা সরে গেলে বিএনপি নির্বাচনে আসতে পারে: এরশাদ

ঢাকা: জাতীয় পার্টির প্রধান এবং সাবেক সেনাশাসক জেনারেল এইচ এম এরশাদ বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে তার দল নির্বাচন করবে না - তার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং এ নিয়ে কোন বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।

বিবিসির সাথে সাক্ষাৎকারে জেনারেল এরশাদ বলেন, তার বিশ্বাস শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীত্বের পদ ছাড়লে সঙ্কটের সমাধান হতে পারে।

এরশাদ বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার থেকে তার দলের নেতারা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ পত্রগুলো ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

কিন্তু সরকারি দলের নেতারা এখনও বলছেন, জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে বলেই তাদের বিশ্বাস।

এ বিষয়ে এরশাদ  বলেন, “এটা সরকারের উইশফুল থিংকিং (সরকার এরকমই ভাবতে চায়)। গত চার বছর ধরেই আমি বলে আসছি আমি এককভাবে নির্বাচন করবো। আমি কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হবো না।”

তিনি জানান, সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সেরকম কোনো নির্বাচনেও তিনি অংশ নেবেন না।

নির্বাচনের কোনো পরিবেশও নেই বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, “বিএনপি প্রধান বিরোধী দল। তাদের ছাড়া নির্বাচন হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। অশান্তি বন্ধ হবে না।”

তিনি বলেন, “আন্দোলন চলতে থাকবে। মানুষ মরতেই থাকবে। মানুষ জ্বলে মরতে থাকবে। এই অবস্থায় নির্বাচন করা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।”

এরশাদ বলেন, তিনি আন্দাজ করেছিলেন যে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু দলটির ভেতরে ভেতরে অনেকেই নির্বাচনে আসতে চাইছিলো। অনেক প্রার্থী গ্রামে গঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণাও চালাচ্ছিল যা দেখে তার মনে হয়েছিলো যে বিএনপি হয়তো শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

সেই আশাতেই তিনি নির্বাচনে গিয়েছিলেন যার মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের একটা সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারের সাথে শর্ত নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, সরকারের সাথে তার কোনো শর্ত ছিল না।
কিভাবে বর্তমান সঙ্কটের সমাধান হতে পারে এই প্রশ্নে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদে না থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কারণ বিএনপির আশঙ্কা নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে থাকলে নির্বাচনে কারচুপি হতে পারে।

তিনি জানান, নির্বাচনকালীন সরকার থেকেও তার দলের মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন। সবার পদত্যাগপত্র তার কাছে জমা আছে।

শনিবার তারা পদত্যাগ পত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন। সেগুলো নেওয়া হয়নি। রোববারেও দলের মহাসচিব গিয়েছিলেন কিন্তু সেসব গ্রহণ করা হয়নি। তাই এখন তারা ডাকযোগে পাঠানোর চেষ্টা করছেন।

তিনি জানান, তার দলের মন্ত্রীরা অফিসেও যাচ্ছেন না। সূত্র: বিবিসি।

তারানকোকে নিজের অবস্থান জানালেন এরশাদ

ঢাকা: ঢাকা সফররত জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

রোববার সকালে নিজের বাসভবনে তারানকোর সঙ্গে বৈঠককালে এরশাদ জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে সব দলের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে বলেও তারানকোকে জানান এরশাদ।

বৈঠক শেষে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে জাপা মহাসচিব রহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, তারা জাতিসংঘ দূতকে জানিয়েছেন সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে না।

মন্ত্রীদের পদত্যাগ প্রসঙ্গে হাওলাদার জানান, আজই তারা পদত্যাগ করবেন।

সাংবাদিকদের ব্রিফিং শেষে হাওলাদার পদত্যাগপত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন বলে জানা গেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিনে এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কে আসেন তারানকোসহ জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে এ বৈঠক শেষ হয়।

এরশাদ-তারানকো বৈঠক চলছে

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর  বৈঠক চলছে। দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসন এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। 

এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তারানকো বারিধারায় এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে পৌঁছান।

জাতীয় পার্টি থেকে বৈঠকে উপস্থিত আছেন মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের।

নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দিতে বললেন তারানকো

ঢাকা: নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি  অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো।  জবাবে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ দূতকে জানান, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত।

শনিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তারানকোর বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গওহর রিজভী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

গওহর রিজভী জানান, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।   সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে  একমত পোষণ করা হয়েছে।

বিকেল পাঁচটার দিকে তারানকো গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এর আগে তিনি ঢাকার একটি হোটেলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

অস্কার ফারনান্দেজ তারানকো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটে মধ্যস্থতার জন্য এই সফরে এসেছেন।

ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে  তারানকোর যে বৈঠক হয়, সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, ফারুক খান এবং মাহবুবুল আলম হানিফ।

মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, সে সম্পর্কে অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এর বিপরীতে আওয়ামী লীগও তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই আলোচনা মাত্র শুরু হয়েছে, তারানকোর সঙ্গে আরও এক দফা বৈঠক হওয়ার কথা আছে।

বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতিসংঘের কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আছে কি না সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তোফায়েল আহমেদ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পাঁচ দিনের বিশেষ সফরে তারানকো ঢাকায় আসেন।

ব্যক্তি বা দলের আদেশ মানা থেকে বিরত থাকুন: বিএনপি

ঢাকা: একতরফা নির্বাচনে কোনো ব্যক্তি বা দলের আদেশ না মানতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলেছে দলটি।

শনিবার সকালে অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ এ আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে ভয় পায় বলে একতরফা প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। আমরা নির্বাচন কমিশনকে আবারো আহ্বান জানাই, সরকারের তল্পিবাহক না হয়ে প্রহসনের এই নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত করুন। প্রজাতন্ত্রের সব সন্মানিত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আহ্বান জানাই, আপনারা দেশের জনগণ এবং রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন। কোনো ব্যক্তি বা দলের অবৈধ ইচ্ছা বা আদেশ পালনের হাতিয়ার হিসেবে আপনারা ব্যবহৃত হবেন না।” নির্দলীয় সরকারের দাবির এই আন্দোলনে সরকার পতন ঘটাতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, “সরকারের একতরফা নির্বাচনে কমনওয়েলথ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ কোনো গুরুত্বপুর্ণ রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। এমনকি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত অধিকাংশ পর্যবেক্ষক সংস্থা ও সংগঠন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করেননি।”

তিনি বলেন, “কেবল তাই নয়, একতরফা নির্বাচনে শিক্ষক সমাজের একটি বৃহৎ অংশ দায়িত্ব পালনে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। এরপরও সেই একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানে জন্য এই অবৈধ সরকার গোঁ ধরে বসে আছে।”

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “জানা গেছে, অবৈধ সরকারের ৩৩ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রীসহ অনেকেই বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। আরো ১০৩টি আসনে একক প্রার্থী হওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। কিছুসংখ্যক আসনে কোনো প্রার্থীই নেই।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনকে ভয় পায়। প্রধানমন্ত্রীর পিতা বাকশালী সংশোধনীর মাধ্যমে তত্কালীন সংসদকে পুনর্বার আরো এক বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীও আইন জারি করে আরেকবারের জন্য এই সংসদকে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা দিতে পারেন। তাতে অন্তত রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হবে না।”

 

জেলে গেলে ৮-১০ জনকে নিয়েই যাবো: এরশাদ

ঢাকা: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, “পরিস্থিতি যেভাবে চলছে তাতে মনে হচ্ছে ওরা আমাকে জেলে দেবে। তবে আমিও ছাড়ব না। জেলে গেলে ৮-১০ জনকে নিয়েই যাব।”
 
শনিবার ভোর ৬টার দিকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নেতাকর্মীদের এসব কথা বলেন তিনি। এসময় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে বসেন এবং পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেন। দুই/একজন কেঁদে বলেন, স্যার আপনার কোনো ভয় নেই, আমরা আপনার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। ওরা নিতেও পারবে না কারণ জনগণ আপনাকে  আবার দেশের প্রধান হিসেবে দেখতে চায়।

তখন এরশাদ বলেন, কয়েকদিন আগে আমাকে রিকশাওয়ালারা ধরে বলেছে স্যার আপনি একা নির্বাচন করেন আপনাকে আমরা ভোট দেব। আপনার শাসনামলে যতো সুযোগ সুবিধা পেয়েছি আর কারো আমলে তা পাইনি। তাছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলাম। নামাজ শেষে মুসল্লিরা আমাকে বলল, স্যার আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনি এককভাবে নির্বাচন করেন আবার আপনি ক্ষমতায় আসবেন।

নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারম্যানের কাছে দাবি করে বলেন, আপনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সঠিক, বাংলার জনগণ আপনার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। সুতরাং আপনি এ সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন। আর জাপা কোনো জোট করবে না, এককভাবেই নির্বাচনে যাবে। বাংলার জনগণ জাতীয় পার্টিকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়। কারণ আপনার নয় বছরের শাসনামলে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছিল তা জনগণ ভোলেনি।

এ সময় এরশাদ বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। মানুষ আজ আতঙ্কগ্রস্ত। এ জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাঝে কোনো নির্বাচন হলে কেউ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসতে পারবে না এবং কেউ ভোট দেবেও না। তাই আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাতে অটল থাকব।
 
এদিকে, একটি সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন এইচ এম এরশাদ। এ মুহূর্তে গণমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এড়ানোর জন্যই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: আইআরআইবি

দশম জাতীয় নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী ৮৪৭ একক প্রার্থী ৩৩, বাতিল ২৬০

ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাখিল করা এক হাজার ১০৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বাতিল হয়েছে ২৬০টি। যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ ঘোষিত হয়েছে ৮৪৭ জনের মনোনয়নপত্র। এ ছাড়া ৩৩টি আসনে রয়েছেন একজন করে প্রার্থী।আর ১০৩টি আসনে রয়েছেন দুজন করে প্রার্থী।

যাচাই-বাছা্য়ের সময়েই নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন সাতজন প্রার্থী।
 
প্রার্থীদের এ সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। যেসব প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের  দেয়া সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেন নি, তারা সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল বা নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে কোনো কোনো আসনে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে বা কমতে পারে।

শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
 
এছাড়া লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনে সব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টের দু’জন প্রার্থী ছিলেন। ঋণখেলাপির দায়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে এম শাহজাহান কামাল ও জাতীয় পার্টির মনিরুজ্জামান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ফলে এ আসনটি প্রার্থী শুন্য রয়েছে।
 
৩৩ প্রার্থীর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এরা হলেন, কিশোরগঞ্জ-১ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ফরিদপুর-৩ খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সিলেট-১ আবুল মাল আব্দুল মুহিত, মৌলভীবাজার-৪ মো. আব্দুস শহীদ, চাঁদপুর-১ ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, নোয়াখালী-৫ ওবায়দুল কাদের এবং চাঁদপুর-৩ ডা. দীপু মনি, লালমনিরহাট-২ নুরুজ্জামান আহমেদ, নাটোর-১ আবুল কালাম, নাটোর-২ শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-৩ জুনাইদ আহমেদ পলক, বাগেরহাট-১ শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-২ মীর শওকত আলী বাদশা, পিরোজপুর-১ এ কে এম আউয়াল (সাইদুর রহমান), টাঙ্গাইল-৩ আমানুর রহমান রানা, কিশোরগঞ্জ ৪-রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, মানিকগঞ্জ-২ মমতাজ বেগম, গাজীপুর-২ জাহিদ আহসান রাসেল, ফরিদপুর-১ আব্দুর রহমান, ফেনী-২ নিজাম উদ্দিন হাজারী, চট্টগ্রাম-৭ হাছান মাহমুদ, কুমিল্লা-৭ অধ্যাপক আলী আশরাফ, রংপুর-৫  এ এইচ এন আসিকুর রহমান, রাজশাহী-১ ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৪ এনামুল হক, সিরাজগঞ্জ-৩ ইসহাক হোসেন তালুকদার, যশোর-১ শেখ আফিল উদ্দিন,  মুন্সিগঞ্জ-৩ মৃণাল কান্দি দাস, নরসিংদী-৫ রাজিউদ্দীন আহমদ রাজু, কুমিল্লা-১০ আ হ ম মুস্তফা কামাল, নোয়াখালী-২ মোর্শেদ আলম, সুনামগঞ্জ-২ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ভোলা ১-তোফায়েল আহমেদ।
এদিকে ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্য থেকে পাঁচটি আসনে সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঢাকার ১৫টি আসনে মোট ৬১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল।
 
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আওলাদ হোসেন, ঢাকা-৬ আসনের মো. নিয়ামুল হক মালিক, ঢাকা-৭ আসনের মো. আফতাব গনি ও মো. হারুন অর রশিদ, ঢাকা-৮ আসনের ইসমাইল মাহমুদ ও মির্জা আবদুস সালাম এবং ঢাকা-১৭ আসনের মীর আজহার উদ্দিন।
 
আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

খোকা গ্রেপ্তার

ঢাকা: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে তাকে রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর রোডের ১৮ নম্বর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় খোকার সঙ্গে থাকা আরিফ নামে বিএনপির এক কর্মীকেও আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার (এসি) বাংলামেইলকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর শাহবাগে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা মেরে ১৯ জনকে দগ্ধ করার মামলায় শাহবাগ থানায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাসহ বিএনিপ-জামায়াতের ১৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এ মামলায় গত ৩০ নভেম্বর বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। গ্রেপ্তার আতঙ্কে মির্জা ফখরুলসহ অন্য নেতারা আত্মগোপনে আছেন।

বৃহস্পতিবার ৫টার মধ্যে দাবি না মানলে আরো কঠোর কর্মসূচি: বিএনপি

ঢাকা: সরকার বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে বিরোধদলীয় জোটের দাবি না মানলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

মঙ্গলবার সকালে অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় এই হুঁশিয়ারি দেন দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ।  

সালাহউদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, এখনো সময় আছে। এক তরফা নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করুন। দেশ ও জাতির স্বার্থে অন্তর্ঘাতের পথ পরিহার করুন।”

তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা না দিলে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হবো।”

প্রসঙ্গত, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার ও জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে শনিবার ভোর ছয়টায় শুরু হওয়া ১৮ দলের ১৩১ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শেষ হবে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায়।

রুহুল কবির রিজভীর জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুর

ঢাকা, ৪ ডিসেম্বর : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম এম এ সালামের আদালতে রুহুল কবির রিজভী আহমেদের জামিন ও রিমান্ড আবেদনের শুনানি শুরু হয়। এ আগে সকাল ১০টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
শনিবার ভোরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ৭২ ঘণ্টা অবরোধ শুরুর আগে রাজধানীর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হানা দিয়ে থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় কম্পিউটার ও আসবাবপত্র ভাংচুর ছাড়াও কার্যালয় তছনছ করা হয়। শাহবাগে বাসে আগুন দেয়ার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ওই দিন ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে শুক্রবার রাতে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই দ্বিতীয় দফা ৭২ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আটক হন তিনি। দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন রুহুল কবির রিজভী।
উল্লেখ্য, শাহবাগে বাসে আগুন দেয়ায় ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় রুহুল কবির রিজভী ছাড়াও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, সালাউদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামকেও আসামি করা হয়েছে।

হঠাৎ চাঙ্গা প্রশাসন : জরুরি বৈঠকে ৫ সিদ্ধান্ত

মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সচিবালয় চাঙ্গা হয়ে ওঠে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দেয়ার পরপরই সচিবালয় পাড়ায় চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি থাকা পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ একত্রিত হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে জরুরি বৈঠকে বসেন। এখানে সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে তাদের নীতিনির্ধারণী অপর একটি গ্র“প সচিবালয়ের মধ্যে পৃথক বৈঠকে বসে এরশাদকে ধন্যবাদ জানানোসহ তাদের ন্যায্য দাবি আদায় ও দলমত নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার স্বার্থে পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, মহাজোট সরকারের সময়ে প্রশাসনে দীর্ঘদিন থেকে ওএসডি থাকা ও দফায় দফায় পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা তাদের পূর্ব-ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিচে অবস্থিত টি-স্টলের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা ১১টার মধ্যে জমায়েত হওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা একে একে ৫০ ছাড়িয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে গিয়ে বসেন। এর মধ্যে দুপুর ১২টায় খবর চলে আসে যে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর উপস্থিত কর্মকর্তারা এক ধরনের স্বস্তি ও উল্লাস প্রকাশ করেন। ততক্ষণে কর্মকর্তার সংখ্যা একশ’ ছুঁই ছুঁই অবস্থা। এরপর লাইব্রেরি কক্ষের মিটিং সংক্ষিপ্ত করে তাদের মধ্যে সিনিয়রদের একটি নীতিনির্ধারণী গ্র“প সচিবালয়ে অন্যত্র বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।
এ বৈঠকে উপস্থিত যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এইচএম এরশাদকে ধন্যবাদ জানানোসহ তাদের বৈঠক থেকে পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে এক. পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া ছাড়া নতুন করে কোনো পর্যায়ে আর পদোন্নতি দেয়া যাবে না। দুই. দীর্ঘদিন ধরে শাস্তিমূলক ওএসডি থাকা কর্মকর্তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী দ্রুত পোস্টিং দিতে হবে। তিন. মাঠপ্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে যেসব কর্মকর্তাকে নিপীড়ন দেয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে শাস্তিমূলক ডাম্পিং পোস্টিং দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে তাদের সচিবালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন দফতরে পদায়ন করা। চার. প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করতে শিগগির দলবাজ কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ এবং পাঁচ. আগের বৈঠকের ফলো-আপ সিদ্ধান্ত জানতে আগামী রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে আবার সাক্ষাৎ করা।
বৈঠকে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা জানান, তারা সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ম-শৃংখলা ও আচরণের প্রতি সচেতন থেকে দেশের স্বার্থে মতবিনিময় করেন। তারা বলেছেন, একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া যেমন দেশে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধভাবে করা সম্ভব নয়, তেমনি দলীয় প্রশাসনের কারণে সেবা নিতে আসা জনগণ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই তারা সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে চান। যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা হবে মূল্যায়ন করার অন্যতম মাপকাঠি। তাদের মতে, বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ মাত্রায় একটি দলীয় প্রশাসন। জাতীয় নির্বাচন করার মতো এখানে বর্তমানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই। কেন্দ্র থেকে মাঠপ্রশাসন পর্যন্ত একই চিত্র। এ ছাড়া প্রশাসনে গত পাঁচ বছরে যেসব দলবাজ কর্মকর্তা নির্বিচারে ছড়ি ঘুরিয়ে নিরীহ ও প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করে নানাভাবে নির্যাতনের যে স্টিম রোলার চালিয়েছেন তাদের অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। তারা মনে করেন, প্রশাসন দলীয়করণে যাদের ভূমিকা রয়েছে তাদের সমুচিত শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এ প্রবণতা আর ঠেকানো যাবে না। এরশাদকে ধন্যবাদ জানানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিলম্বে হলেও তিনি দেশের বেশিরভাগ মানুষের প্রত্যাশা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন এবং বিরোধী দলহীন নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে করে প্রশাসনেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ কারণে তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সূত্র জানায়, ওএসডি ও পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব দেয়ার পেছনে ভুক্তভোগী সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সচিব ইবাদত আলী, অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল করিম, যুগ্ম সচিব বিজন কান্তি সরকার, আবদুল বারী প্রমুখ।
উৎসঃ   যুগান্তর

নির্বাচনে যাচ্ছেন না এরশাদ : প্রার্থীদের মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ

ঢাকা, ৩ ডিসেম্বর : নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, সব দল নির্বাচনে আসেনি তাই আমি নির্বাচনে যাচ্ছি না। তিনি প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বনানীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রার্থীদেরও নির্বাচন থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, প্রার্থীদের মনোয়নপত্র তুলে নেয়ার কথা বলেছি। আবার নির্বাচনের পরিবেশ হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, রাজনীতির জন্য আমি সব করেছি। দেশের জন্য নিজেকে নিঃস্ব করেছি। আমি স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে চাই। মৃত্যুর ভয় ও জেলের ভয় করি না বলেও জানান তিনি।

প্রতিশ্রুতি রক্ষার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ বলেন, আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সব দল না এলে নির্বাচন করবো না। আমি আমার দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি।

এ নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না উল্লেখ করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, দেশ আজ  ধ্বংসের মুখে। এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য বাইরের কাছে আমরা লজ্জিত হচ্ছি।

আমি বিস্মিত, হতবাক, ক্ষুব্ধ, বেদনাহত: খালেদা

ঢাকা: ১৮ দলের আন্দোলন চলাকালে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মারার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, “আমি বিস্মিত, হতবাক, ক্ষুব্ধ ও বেদনাহত।” এসব ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ১৮ দলের নয়, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত দুর্বত্তরা এসব সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে।

সোমবার রাতে গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য পাঠানো তার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন।


শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বেগম জিয়া বলেন, “দেশের কোথাও যেন নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলা না হয়। কোথাও যেন তাদের সম্পদ নষ্ট করা না হয়। আমাদের আন্দোলন দেশ ও মানুষ বাঁচাতে। সাধারণ মানুষের প্রাণসংহার  ও তাদের ব্যক্তিগত সম্পদহানির জন্য নয়।” পাশাপাশি তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন জনগণের প্রতিপক্ষ না হয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, “প্রহসনের একতরফা নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে বিশেষ দলের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত হবেন না। ঘোষিত তফসিল স্থগিত করে দেশকে বাঁচান।” একই সঙ্গে তিনি জনগণকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান।



বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, “আমি বিস্মিত, হতবাক, ক্ষুব্ধ ও বেদনাহত। আমরা স্বৈরশাসনের কবল থেকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করতে আন্দোলন করছি এবং প্রহসনের একতরফা নির্বাচন আয়োজনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা নিরীহ-নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ওপর পৈশাচিক হামলা চালাচ্ছে, এমনকি যাত্রীবাহী যানবাহনে বোমা মেরে, আগুন দিয়ে নাগরিকদের জীবন্ত দগ্ধ করছে। এসব হামলার শিকার বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা  অগ্মিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তাদের করুণ আর্তনাদ জননিরাপত্তাব্যবস্থার ক্ষমাহীন ব্যর্থতাই প্রকটভাবে ফুটিয়ে তুলছে।”

বিরোধীদলীয় নেতা এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও হামলার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

বিএনপি ও ১৮ দলের নেতাকর্মীসহ আন্দোলনরত সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বেগম জিয়া বলেন, “আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, দেশের কোথাও যেন নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলা না হয়। কোথাও যেন তাদের সম্পদ নষ্ট করা না হয়। আমাদের আন্দোলন দেশ ও মানুষ বাঁচাতে। সাধারণ মানুষের প্রাণসংহার  ও তাদের ব্যক্তিগত সম্পদহানির জন্য নয়।”

সরকারি দল ও প্রধানমন্ত্রী বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের এসব ঘৃণ্য কার্যদকলাপ পুঁজি করে সংকীর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে নানামুখী অপপ্রচার শুরু করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বেগম জিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমি বিরোধী দলের নেতা। অথচ গুলশানে আমার অফিসের স্বাভাবিক কার্য্ক্রম পর্য ন্ত পুলিশ ও গোয়েন্দাদের তৎপরতার কারণে চলতে পারছে না। আমার বিশেষ সহকারীকে আটক করা হয়েছে। অন্যরাও স্বাভাবিক কার্যগক্রম চালাতে পারছে না।”

গণমাধ্যমের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সরকারের সমালোচনার দায়ে বেশ কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র বন্ধ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ও শাসক দলের সমর্থনপুষ্ট কিছু গণমাধ্যমকে দিয়ে আজ বিরোধী দলের বিরুদ্ধে একতরফা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে দেশে ভারসাম্যহীন এক অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “একদিকে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের মিথ্যা অভিযোগে মামলা হচ্ছে, অন্যদিকে এক মন্ত্রী বলেছেন যে, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেললে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। এসব থেকে পরিষ্কার হয় যে, বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়, আওয়ামী লীগের নেতা শেখ সেলিমের জবানবন্দি থেকে দেশবাসী জেনেছেন, দলীয় সভানেত্রীর জ্ঞাতসারেই তার দলের যুবনেতারা যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে আগুন ধরিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারার পৈশাচিক কার্যাকলাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন।”

সরকারি দলের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমি তাদের বলব, যেভাবেই হোক আপনারা এখনো ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে রয়েছেন। উৎপীড়ন ও নির্মূল অভিযান ছেড়ে সমঝোতার পথে আসুন। চক্রান্ত ও অন্তর্ঘাতের পথ পরিত্যাগ করে শান্তি ফিরিয়ে আনুন।”


বিএনপি নেত্রী বলেন, “প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন। জনগণের প্রতিপক্ষে অবস্থান নেবেন না।”

“নির্বাচন কমিশনকে বলব, প্রহসনের একতরফা নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে বিশেষ দলের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত হবেন না। ঘোষিত তফসিল স্থগিত করে দেশকে বাঁচান।” প্রহসনের নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান খালেদা জিয়া।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া আরো বলেন, “আমি গত পাঁচ বছর ধরে উৎপীড়িত ও ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। জনগণের ন্যায়সংগত আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয়নি। ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত ও অতি নিকটবর্তী।

বৃস্পতিবার বিকাল ৫টায় পর্যন্ত অবরোধ বৃদ্ধি

ঢাকা, ২ ডিসেম্বর : ঘোষিত তফসিল প্রত্যাহার, বর্তমান সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টায় এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও  দফরের দায়িত্ব প্রাপ্ত সালাহউদ্দিন আহমেদ এ ঘোষণা দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ৭২ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। ওই দিন গভীর রাতেই নয়াপল্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দরজা ভেঙ্গে রিজভী আহমেদকে আটক করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধের এ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।

বৃস্পতিবার বিকাল ৫টায় পর্যন্ত অবরোধ বৃদ্ধি

ঢাকা, ২ ডিসেম্বর : ঘোষিত তফসিল প্রত্যাহার, বর্তমান সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টায় এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও  দফরের দায়িত্ব প্রাপ্ত সালাহউদ্দিন আহমেদ এ ঘোষণা দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ৭২ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। ওই দিন গভীর রাতেই নয়াপল্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দরজা ভেঙ্গে রিজভী আহমেদকে আটক করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধের এ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।

‘হাসিনারে কই, পদত্যাগ করেন, এখনই নামেন, গাড়িও আর জ্বলত না’

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়েছিলেন। অগ্নিদগ্ধদের দেখে তিনি বিমর্ষ মনে বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী গণহত্যা করছেন। এর বিরুদ্ধে যতটুকু কঠোর হওয়ার দরকার সরকার তা হবে। সাংবাদিকদের যখন প্রধানমন্ত্রী এধরনের আশ্বাস দিচ্ছিলেন তখন বার্ন ইউনিটে অনেক অগ্নিদগ্ধ মানুষ কাতরাচ্ছিল। তাদের কেউ কেউ বলছিলেন, সরকার যদি আরো আগে কঠোর হয়ে যারা আগুন দিয়েছে তাদের ধরতে পারত তাহলে আজ আমাদের এ অবস্থা হত না। রোগিদের এমন মšত্মব্যে পাশে তার স্বজনরা ডুকরে কেঁদে ওঠে।

 প্রধানমন্ত্রী অবরোধ-হরতালে পোড়া মানুষকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি চলে যেতেই বার্ন ইউনিটে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অনেকে। তারা তাদের ক্ষোভ সংবরণ করতে পারেনি। এসময় কোনো কোনো ব্যক্তিকে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাদের প্রায় সবাই ছিলেন বাকরুদ্ধ। শোকে অনেকেই ¯ত্মব্ধ। আহত মানুষের অনেকের ঘরে খাবার নেই, তারপর এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার ভার কে নিবে তা নিয়ে তাদের দুশ্চিšত্মার শেষ নেই। স্বভাবতই তারা ছিল কেউ ক্ষুব্ধ, কেউ হতাশ, কারও মুখে ভাষা নেই।

 ১০ নভেম্বর রায়েরবাগে মন্টু পালের পাশেই বসেছিলেন কামাল হোসেন। সদরঘাটে দর্জির দোকানে কাজ করতেন। তাঁর হাত-পা-মুখ পুড়ে গেছে। পাশে বসে থাকা স্বজন আশুরা বেগম বলেন, কে গদিতে উঠল, কে নামল, তাতে আমার কোনো সাহায্য সহযোগিতা হইত? আমার কি?’ তাঁর মুখের কথা কেড়ে নেন কামাল। তিনি বলেন, ‘আমি হাসিনারে কই, আপনি পদত্যাগ করেন, দেশে শাšিত্ম আইব, সে ( শেখ হাসিনা) নামব না। এখনই নামেন, একটা গাড়িও আর জ্বলত না।’

 শেখ হাসিনার সান্ত্বনা তিল পরিমাণ স্ব¯িত্ম দেয়নি শামসুন্নাহারকে। পুড়ে যাওয়া ছেলে শামীমকে দেখিয়ে তিনি বললেন, ‘সান্ত্বনায় কি কষ্ট কমে?’ শাহবাগের বিহঙ্গ পরিবহনের ভেতর পুড়েছেন কেরানীগঞ্জের ছেলে শামীম। চেহারা চেনা যায় না। শামীমের মা বলেন, ‘ছেলের মুখের দিকে চাইয়া আমার কইলজাটা যে ক্যামন করে! দেখো একটু ওরে। প্রধানমন্ত্রী যতই সান্ত্বনা দিক, কষ্ট কি কমব? কমত না। কোনো লাভ হইব, হইব না।’ শামসুন্নাহারের গাল বেয়ে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে। কাঁদেন গাড়িচালক আবদুর রাজ্জাকও। পুরো মুখ পুড়েছে, বুকের কাছটাও পোড়া। বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।’

 ধানমন্ডিতে লেগুনা গাড়ির হেলপার ১৩ বছরের শিমুলকে পুড়িয়েছিল দুর্বৃত্তরা। শিমুল এখন বার্ন ইউনিটের তিন তলায়। প্রধানমন্ত্রী দোতলা আর চারতলা ঘুরে চলে গেছেন। শিমুলের রিকশাচালক বাবা আমানুল্লাহ সর্দার ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘আমি রিসকা চালাই। ২২টা দিন হাসপাতালে। এই ছেলে যন্ত্রণায় ছটফট করতাছে। হ্যায় দোতলা থাইকা চুপ কইরা চইলা গেছে। বাচ্চা পোলাপান তাগো দ্যাখবো না, কথা কইব না? আমরা ক্যামন আছি, ক্যামনে চলতাছি হে খোঁজ লইব না?’ শিমুল চুপ করে শোনে, অস্পষ্ট গলায় বোনের মত শিয়রে দাঁড়ানো সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করে, ‘আমি ভালো হইতাম না, কবে হমু?’

 চিকিৎসাধীন আছেন তিন মেয়ের জনক আবুল কালাম। মেয়ে চাকরি করতে চায়, চাকরির দরখাস্ত জমা দিতে গিয়ে পুড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়েকে একটা চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন। বললেন, ‘আমি জানি হ্যায় নামতে নামতেই ভুইলা যাইব। কপালে থাকলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে রাখব যে কাউরে কথা দিছিলাম। বেশি কিছু আশা করি না। আমরা তো দাবার ঘুঁটি। হ্যারা খেলতাছে। আমরা পুড়তাছি।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে হরতাল-অবরোধে দগ্ধ মানুষের মাথার কাছে কাগজ সেঁটেছে কর্তৃপক্ষ। লাল কালিতে কে, কোথায় পুড়েছে তার নিশানা দেওয়া। আজও বার্ন ইউনিটে পোড়া মানুষগুলো যন্ত্রণায় চিৎকার করেছে। বাতাসে পোড়া মাংসের গন্ধ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পোড়া রোগীর চিকিৎ্সা-ব্যয় অন্য যেকোনো রোগীর চেয়ে বেশি। তিনি আর্থিক সহায়তা দেবেন বলেছেন।’ গত দুই সপ্তাহে হরতাল-অবরোধের আগুনে পোড়া ৫৭ জন নারী-শিশু-পুরুষ ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎ্সা নিয়েছে বা নিচ্ছে।

ঘরপোড়া কেউ সিঁদুরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়। বার্নইউনিটের চিকিৎসক ও সেবিকারা হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসা দিতে। ড্রেসিং রুম থেকে যখন রোগীর যন্ত্রণার চিৎকার ভেসে আসে তখন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে যায়। তারপরও স্বজকে দাঁড়াতে হয়। প্রেসক্রিপসন নিয়ে দৌড়াতে হয় ওষুধের জন্যে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে কবে বরাদ্দ আসবে সে অপেক্ষায় বসে থাকার সময় তাদের নেই।

বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করবে : জাতিসংঘ

ঢাকা, ১ ডিসেম্বর : বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেফতার পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই বলেছেন, এ ধরনের গ্রেপ্তার ও আটক চলমান পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তুলবে। এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের ও সমঝোতার  সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেবে। রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
 
সহিংসতা বন্ধের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব যাই থাক উভয়পক্ষের রাজনীতিকদেরই তাদের ধ্বংসাত্মক কাজকর্ম বন্ধ করতে হবে। এটা বাংলাদেশকে ক্রমশ ভয়ঙ্কর সমস্যার দিকে ধাবিত করছে। এই ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধে তাদের প্রভাব খাটাতে হবে। একইসঙ্গে এ সমস্যা সমাধানে আলোচনার পথও খুঁজতে হবে।

নাভি পিল্লাই বলেন, আগামী ৫ই জানুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য দূরীভূত করে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসার জন্য সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য যা-ই হোক না কেন দু’ পক্ষকেই ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড অবশ্যই বাতিল করতে হবে। এতে বাংলাদেশ ধ্বংসের যে প্রান্তসীমায় পৌঁছেছে তা ভয়াবহভাবে দেশকে বড় এক সঙ্কটে নিয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোতে এর পরিবর্তে তাদের দায়বদ্ধতা বাস্তবায়ন করতেই হবে।

সহিংসতা বন্ধের আহবান জানিয়ে পিল্লাই বলেন, অবিলম্বে সহিংসতা থামানোর জন্য নেতাদের প্রভাব সৃষ্টি করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে বের করে আনতে হবে এই সঙ্কটের সমাধান।

চলমান সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নাভি পিল্লাই বলেন, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক, ও নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের মধ্যে সংঘাতে এরই মধ্যে বেশ কিছু মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক শত মানুষ। এ সময়ে সম্পদের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। গত সপ্তাহে আমরা দেখেছি বাসের আরোহীদের নামার সুযোগ না দিয়ে দুর্বত্তরা পাবলিক বাসে হাতবোমা নিক্ষেপ করেছে। এতে নারী ও শিশুরা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাচ্ছেন। বাংলাদেশীদের জন্য এ ধরনের সহিংসতা গভীরভাবে হতাশার। তাদের বেশির ভাগই চান সবার অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন। 

গান পাউডার ঢেলে বাসে আগুন, আহত ৫

নারায়ণগঞ্জ: ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের দ্বিতীয় দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্নস্থানে মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা।

এদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে গার্মেন্টসের শ্রমিক আনা-নেয়া করা পরিবহনে গান পাউডার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এতে ৫ জন আহত হয়েছেন।

রোববার সকালে শহরের হাজীগঞ্জ আইইটি স্কুল মোড়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহেদের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা মহাসড়কে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর, হাজীগঞ্জ পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে গার্মেন্টসের শ্রমিক আনা-নেয়া করা পরিবহনে গান পাউডার ঢেলে আগুন ধরিয়ে চলে যায় শিবিরকর্মীরা। তখন বাসে থাকা গার্মেন্টস শ্রমিকেরা দ্রুত নামতে গিয়ে ৫ জন আহত হন।

এছাড়া, জেলার বিভিন্নস্থানে মিছিল, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলায় বিভিন্নস্থানে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষক না পাঠানোর ইঙ্গিত দিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর: বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। হরতালে সহিংসতা এবং রাজনৈতিক ও মানবাধিকার নেতৃবৃন্দদের গ্রেফতারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাথেরিন এ্যাস্টোন শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠাতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু এটি নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।’

ফের ৭২ ঘণ্টার অবরোধ

ঢাকা: ফের টানা ৭২ ঘণ্টা অবরোধের ডাক দিয়েছে বিরোধী ১৮ দলীয় জোট। আগামীকাল শনিবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত চলবে এ সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধ।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

সরকারের জুলুম, নিপীড়ন, নির্যাতন, সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এ অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে বলে ‍উল্লেখ করেন রিজভী।

উল্লেখ্য, এর আগে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে টানা ৭১ ঘণ্টা অবরোধ পালন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। এ অবরোধে দেশব্যাপী ব্যাপক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবা শাহবাগে বাসে পেট্রোলবোমার আগুনে দগ্ধ হয়ে আরো দুই জন মারা গেছে। আরো ১৭ জন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন গ্রেপ্তার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার  করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নগর পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ আটকের বিষয়টি  নিশ্চিত করে বলেন, মীর নাসির রাতের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বিমান বন্দরে উপস্থিত হন। এসময় নগর পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

মীর নাসিরের ব্যক্তিগত সহকারী আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশের করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয়ার জন্য মীর নাসির রাত ১০টার ফ্লাইটে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে যান। পরে পুলিশ সেখান থেকে তাকে আটক করে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার জানান,  চকবাজার থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি ও কোতোয়ালী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মীর নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরে কোতোয়ালী থানা থেকে যাওয়া পুলিশের গাড়িতে করে তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। কাল শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার অবরোধের সময় নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর ও গাড়ীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা পাঁচটি মামলায় মীর নাসির ছাড়াও নগর বিএনপি সভাপতি  আমির খসরু মাহমুদ চৗধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, নগর বিএনিপ’র সাধারণ সাদক ডা. শাহাদাত হোসেন ও নগর জামায়াত আমির আ ন ম শামসুল ইসলামসহ ১৮ দলের প্রায় নয়শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষে নিহত ২

নরসিংদী: ঘোড়াশালে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষে দুই জন মারা গেছে। নিহতরা হলেন পৌর যুবলীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন আনু মিয়া এবং ছাত্রলীগকর্মী শহীদুল ইসলাম। আহত হয়েছেন আরো ১০ জন।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পাইকশা নূর মহসিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার অবরোধকালীন সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আগুন দেয়ার অভিযোগে পৌর ছাত্রদলের দুই সদস্য রিপন ও রুবেলকে সন্ধ্যায় মারধর করে আনোয়ার হোসেন আনু মিয়াসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করে তারা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলকর্মীরা ঘোড়াশালের পাইকশা নূর মহসিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আনু মিয়াসহ সঙ্গীয় অন্যান্য আওয়ামী লীগ সমর্থকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে ও কুপিয়ে আহত করে।

পরে গুরুতর আহতদের নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে আনোয়ার হোসেন আনু মিয়া মারা যান। আর শহীদুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান।

আহতদের জেলা হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে শুধু ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসিন মোল্লা ও শহিদুল ইসলামের পরিচয় জানা গেছে।

ইসিতে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠক ২ ডিসেম্বর নামতে পারে সেনা

ঢাকা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ। নির্ধারিত সময় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হবে। তবে কমিশনের একটি সূত্র জানায়, ‘এ বৈঠকে গোয়েন্দা প্রধানরা দেশের চিত্র তুলে ধরে একটি রিপোর্ট সিইসির কাছে উপস্থাপন করবেন। এ রিপোর্টের ভিত্তিতেই সেনা মোতায়েনের বিষয়টি চূড়ান্ত করবে কমিশন।

সূত্রটি আরও জানায়, ‘ডিসেম্বরের দুই তারিখের মধ্যেই সারাদেশে সেনা মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনপূর্ব সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত এ বৈঠকেই হবে।’

সিইসির সভাপতিত্বে এ বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিকিউকে মোশতাক আহমেদ, সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জে. আবু বেলাল মো. শফিকুল হক, পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার, র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত রয়েছেন।

এছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, এসবি, ডিজিএফআই, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা এ বৈঠকে উপস্থিত আছেন।

নিরাপত্তা জোরদার: গত দুইদিনের চেয়ে বৃহস্পতিবার কমিশন চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রবেশপথে চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরদেরও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে দেখা গেছে।

বঙ্গবন্ধু চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের সড়কে রিকশা চলাচলেও বাধা দেয়া হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের অনেককেই অন্য পথ দিয়ে ঘুরে যেতে দেখা গেছে।

প্রধান গেট ছাড়াও কমিশনের অন্যান্য গেটেও চালানো হচ্ছে কড়া তল্লাশি। কমিশন চত্বরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনে আগ পর্যন্ত পুরো সময় ধরে ইসি জুড়ে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অধীনেই নির্বাচন !

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের অধীনেই অনুষ্ঠিত হতে পারে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেক্ষেত্রে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো দিন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি কিছুটা ছাড় দিয়ে শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলে দলটির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে এখনও না করায় বিএনপির ওই শীর্ষনেতা নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক। তিনি আরও জানান, এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে প্রধান করে নির্বাচনের সময়ে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হলে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির কোনো আপত্তি থাকবে না।

এদিকে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অপর এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এটা থেকে ধরে নেওয়া যায়, দেশের প্রধান বিরোধী দল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রপতিকে মেনে নিয়েছেন। তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে বিরোধী দলের আর কথা বলার থাকবে না।

আওয়ামী লীগের ওই নেতা আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তো একবারও কোথাও বলেননি তার অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। বরং বলেছেন দেশের শান্তির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব চান না। বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দল সঙ্গে নিয়ে সুষ্ঠু ও অবাধ একটি নির্বাচন করতে চান তিনি। এজন্য তিনি বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে সংলাপে বসার আমন্ত্রণও জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি তার আহ্বানে সাড়া দেননি।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে জানান, দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বিকল্প নেই। তার পদত্যাগই সব সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।

তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচনে তার দল বিএনপি যাবে কি-না এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে রিজভী বলেন, আমরা আন্দোলন করছি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং দেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য। যে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত অর্থে একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমাধানে কীভাবে প্রধান বিরোধী দলকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানো যায় সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কারণ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দেশ-বিদেশের নানা মহলের চাপের মধ্যে রয়েছে মহাজোট সরকার।

এদিকে, সমঝোতার মাধ্যমে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে এলে ঘোষিত তফসিল পরিবর্তন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সূত্র: রাইমনিউজ.কম.বিডি

দ্বিতীয় দফায় বাড়ল ১১ ঘণ্টা শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত অবরোধ

ঢাকা: একই দিনে দ্বিতীয় দফায় অবরোধের সময় বাড়ালো বিরোধী ১৮ দলীয় জোট। এখন আগামী শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত চলবে এ অবরোধ।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন বিএনপির যগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এর আগে বিকেলে অবরোধ ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা হয়েছিল। তবে কী কারণে দুই দফায় অবরোধের সময় বাড়ানো হলো তা পরিষ্কার করেননি রিজভী।

উল্লেখ্য, অবরোধের প্রথম দুই দিনে মঙ্গলবার ও বুধবার সারা দেশে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৪ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীও রয়েছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করে সোমবার বিকেলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের ডাক দিয়েছিল। বুধবার দুই দফায় এই অবরোধের সময় বাড়ানো হলো।

দেশের স্বার্থে শেখ হাসিনার সরে দাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ।। ড. কামাল হোসেন

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশের স্বার্থে শেখ হাসিনার সরে দাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। তার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারেনা। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশা নয়। নিজের পক্ষে আইন করে যদি বলেন, আমি নিরপেক্ষ- তা কেউ মানবে না। আজ বিকালে বেইলি রোডে নিজ বাসার উঠানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঘোষিত তফসিল পরিবর্তন হতে পারে। আমরা আশা করি, নতুন করে জনমতের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন করে এমন তফসিল ঘোষণা করা হবে।

বিএনপি এলে পুনরায় তফসিল: সিইসি

ঢাকা: প্রধান বিরোধী বিএনপি যদি নির্বাচনে আসতে রাজি হয়, তাহলে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ।

মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি বলেন, যদি সমঝোতা হয়, তাহলে সব ধরনের সুযোগ আছে।
সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। কিন্তু বিএনপি ওই তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর আগে রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি বলেছিলেন, তারা বড় দুটি দলের মধ্যে সমঝোতার অপেক্ষায় আছেন। এমনকি সমঝোতার আশায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টা পরেই তিনি তফসিল ঘোষণা করেন। ফলে নানা মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে, নির্বাচন কমিশন কি তাহলে সমঝোতার আর সুযোগ দেখছে না?
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে তিনবার তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। এবারো সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। প্রয়োজনে বেশি সময় ধরে সেনা মোতায়েন হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহসহ অন্যদের গ্রেফতারের ঘটনাকে সরকারের ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে অভিহিত করেন জাবেদ আলী। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

নতুন বার্তা/এআর/এসআর
 

সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লায় পুলিশের গুলিতে নিহত ২

ঢাকা, ২৬ নভেম্বর: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ চলাকালে পুলিশের গুলিতে সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লায় ২ জন নিহত হয়েছেন। আমাদের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার জগাইমোড়ে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে যুবদল নেতা সাকমান নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের মাছুয়াকান্দি গ্রামের সমেদ আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার সকালে জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক নুর কায়েম সবুজকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় জগাইমোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাকমান পুলিশের গুলিতে মারা যান।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পুলিশের গুলিতে সাকমান নিহত হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জ জেলা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছেন।

বহুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জানান, নিহত সাকমান ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এদিকে সদর উপজেলার শিয়ালকোল বাজারের অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশ বিএনপির সুলতান, আলম ও আলীম নামে ৩ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের রাবার বুলেটে বিএনপির আরো ১০/১২ জন আহত হন।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জেলার লাকসাম উপজেলায় অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মিছিলে চালানো পুলিশের গুলিতে এক রিকশাচালক নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম বাবুল মিয়া (৪০)।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। বাবুল মিয়ার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নোয়াখালী রোড এলাকায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করেন বিএনপি ও জামায়াতকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালায়। এতে বাবুল মিয়া মারা যান এবং এবং ২০ জন আহত হন।

Additional information

Close info